বিভাগ - সারাদেশ

ঝিনাইদহে আটক ২৩৬ জন, শত শত মানুষ অনুপ্রবেশের অপেক্ষায়

প্রকাশিত

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি তাদের নজরদারী বাড়ালেও কোন ভাবেই অনুপ্রেবেশ ঠেকাতে পারছে না। বরং বাংলাদেশী বলে তাদের এদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। চোরা পথে বাংলাদেশে অনুপ্রেবেশ অব্যাহত রয়েছে। ওপারে শত শত মানুষ অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় আছে এমন খবরও পাওয়া যাচ্ছে। শনিবারও বাংলাদেশে ঢুকেছে ২২ জন নারী, শিশু ও পুরুষ। এই নিয়ে গত ৩ সপ্তায় ২৩৬ জন অনুপ্রবেশকারীকে আটক করেছে বিজিবি। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ ভারতের ঝিনাইদহে অংশে ৭৪ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। বিজিবি এই ৭৪ কিলোমিটার সীমান্ত কঠোর নজরদারী করলেও চোরা পথে দালাল ধরে অনুপ্রেবশেকারীরা হরহামেশা ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশে। এদিকে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর, একই উপজেলার মগদাশপুর ও মাঠপাড়া এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় শনিবার ২২জনকে আটক করেছে বিজিবি। শনিবার ভোর ৫টার দিকে তাদেরকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশু রয়েছে। শনিবার দুপুরে আটককৃতদের মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়। খালিশপুর ৫৮ বিজিবি’র পক্ষে অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কামরুল হাসানের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিজিবি’র নিয়মিত টহল দেয়ার সময় ঝিনাইদহের মহেশপুর বিওপি’র ১শ’ থেকে দেড়শ’ গজ বাংলাদেশ অভ্যন্তরে নিশ্চিন্তপুর কালভার্টের পাশ থেকে ভোর ৫টার দিকে ১৬ জন এবং জলুলি বিএপি’র মগদাশপুর মাঠ থেকে ৫ জন ও মাঠপাড়া থেকে একজনসহ মোট ২২জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে আটক করে। তারা বিভিন্ন সময়ে কাজের সন্ধানে ও চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিল বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় বাংলাদেশ পাসপোর্ট অধ্যাদেশ ১৯৭৩ এর ১১(গ) ধারায় আটককৃতদেরকে মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। জানা গেছে, সম্প্রতি ভারত সরকার জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) প্রকাশ করে। সেখানে নাম না থাকায় মামলা ও নির্যাতনের ভয়ে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে শত শত মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। বিজিবির ভাষ্য, আটক হওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগই ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের বেঙ্গালুর শহরের বাসিন্দা। আটককৃতরা বিজিবিকে জানিয়েছে, ভারতে জাতীয় নাগরিক তালিকার (এনআরসি) আতঙ্ক ও নানা চাপের কারণে তারা ভারত থাকতে পারছেন না। বিজিবির সুত্রগুলো জানায়, কাঁটাতার বিহীন বাংলাদেশের সাথে ভারতের ১১ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। কাঁটাতারবিহীন এলাকা দিয়েই বেশি অনুপ্রবেশ হচ্ছে বলে বিজিবি জানিয়েছে। ৫৮ বিজিবির মহেশপুরের জলুলী ক্যাম্পের সুবেদার মাহবুবুর রহমান বলেন, ভারত থেকে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ নিয়ে সভায় আলাপ-আলোচনা হয়। সবশেষে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তবর্তী ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে কমিটি গঠন করে বিজিবিকে সহযোগিতার সিদ্ধান্ত হয়। শনিবার বিজিবির হাতে আটক হওয়া ব্যক্তিরা জানান, ভারতে গিয়েছিলাম পাসপোর্টবিহীন অবস্থায়। এখন দালাল ধরে চলে এসেছি। কারণ মালিকরা আমাদের টাকা-পয়সা দেন না। তাদের ভাষ্য ‘মোদী যখন ঘোষণা করেছে এরা থাকবে না। এরপর থেকে আমরা যাদের বাড়িতে কাজ করতাম তাদের বাড়িতে সরকার লোক পাঠিয়েছে। সরকারের লোকজন বলেছে, দেখো তোমরা তো কাজ করো, তোমরা মুসলিম, বাংলাদেশি। এদেশে তোমাদের কাজ করতে দেওয়া হবে না। তোমরা যেখান থেকে এসেছো সেখানে চলে যাও। বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ আগেই গনমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন, ভারত থেকে ফিরে আসারা দাবি করছেন তারা বাংলাদেশের নাগরিক। কারাগারে পাঠানোর পর তাদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। তাদের ভাষ্য, তারা পাসপোর্ট ছাড়াই ভারতে ছিল। ওখানে কোনো বাসা বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতো। ওখানে তাদেরকে কিছু লোকজন খোঁজ করছে এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছিল তারা তাদেরকে আর তাদের রাখতে পারবে না বলে জানিয়ে দিলে তারা বাংলাদেশে ফিরে আসছে।