বিভাগ - সারাদেশ

ঝিনাইদহে করোনার মধ্যে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলে ভোগান্তি আর বিপাকে পড়েছেন কর্মহীন ঘরবন্দি স্বল্প আয়ের মানুষ!

প্রকাশিত

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহে করোনাকালে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার গ্রাহক। লকডাউনে মিটার রিডিং না দেখেই বিদ্যুৎ বিল করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রাহকরা। এ সমস্যা সমাধান করে সঠিক বিল করার দাবী ভুক্তভোগীদের। তবে বিদ্যুৎ অফিসের সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, নির্ধারিত দিনের পর বিল পরিশোধ করায় অনেক গ্রহকের বকেয়া হিসাবে পরবর্তি বিলের সাথে যোগ হয়ে গেছে। এমন সমস্যা যাদের হয়েছে তারা অফিসে এসে সংশোধন করে নিতে পারবেন। সব থেকে বেশি অভিযোগ পল্লী বিদুৎ সমিতির গ্রাহকদের। তাদের শত শত গ্রাহক তাদের পূর্বের মাসের বিল ও বর্তমান মাসের বিলের টাকার পার্থক্য জানিয়েছেন। ক’মাস আগেও ২’শ থেকে ৫’শ টাকা বিল আসলেও সেখানে এ মাসে বিল দেখানে হয়েছে ৪’শ থেকে ২ হাজার টাকা। এমন অভিযোগের পর জেলার বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) বিলে ত্রুটি থাকলে পরবর্তি মাসে সংশোধন করে দেওয়া হবে বলে গ্রাহকদের মুঠোফোনে একটি ক্ষুদ্র বার্তা পাঠিয়েছে। একই রকমের মৌখিক কথা বলেছেন ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যু সমিতির কর্মকর্তারাও। জেলা সদরসহ শৈলকুপা, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলায় ওজোপাডিকো’র ১ লাখ ২৫ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এ ছাড়া পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার। একই রকম অবস্থা জেলার হাজার হাজার পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকরাও। সব থেকে বেশি বিপদে পড়েছে করোনাকালে কর্মহীন ঘরবন্দি স্বল্প আয়ের মানুষ। গ্রাহকদেরে অভিযোগ, বিদ্যুৎ অফিসের মিটার রিডাররা ঘরে বসে বিদ্যুতের বিল তৈরী করেছে। যে কারণে দু থেকে ৩ গুন বেশি বিল দিতে হচ্ছে। করোনার কারণে আয় রোজগার না থাকায় বাড়তি বিল দিতে হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষগুলো। প্রতিদিন বিদ্যুৎ অফিসের অভিযোগ কেন্দ্রে লাইন দিচ্ছে ভুক্তভোগিরা। সেখানেও হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি ঝিনাইদহ ওজোপাডিকোলি’র নির্বাহী প্রকৌশলী পরিতোষ চন্দ্র সরকার। তবে, কালীগঞ্জ উপজেলা আবাসিক প্রেকৌশলী মতিয়ার রহমান, আমাদের কাছে এরকম একটি অভিযোগ এসেছিল। আমি মিটার রিডিং দেখতে পাঠিয়েছি। সমস্য থাকলে সমাধান করে দেওয়া হবে। এমন সমস্য কোন গ্রহকের থাকলে অফিসে এসে সমাধান করার জন্য বলেন। এ ছাড়া সমস্য থাকলে পরবর্তি মাসের বিলে সমন্বয় করা হবে বলে যোগ করেন। ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আবদুর রব জানান, করোনাকালে কিছুটা সমস্য হয়েছে। সমস্যা থাকলে গ্রাহকরা অফিসে এসে ঠিক করে নিতে পারবেন। গ্রাহক ঠিক না করলেও মিটার রিডিং এর বেশি বিল গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনভাবেই নেওয়া হবে বলে যোগ করেন।