বিভাগ - সারাদেশ

ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদ দিবস পালিত

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র ট্রাস্ট-চট্টগ্রাম ও মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্যোগে ঢাকা- চট্টগ্রামসহ দেশের কয়েকটি জেলায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ দিবস পালিত হয়। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় এই দিবসটি সরকারিভাবে পালনের দাবিতে সংশ্লিষ্ট জেলার প্রেস ক্লাবের সামনে মানব বন্ধন, পরে শহীদ মিনারে মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে বরণ, শহীদ মিনারে শহীদদের স্মরণে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। সবশেষে শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্জলন করা হয়। ঢাকায় রুহেল আহমদ বাবু, আলমগীর রুমির পরিচালনায় অনুষ্টিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকার কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধা রুহেল আহমদ বাবু তার বক্তব্যে বলেন ৭২ সালের ১৬ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু এই দিবসটি খুবই গুরুত্বের সাথে পালন করেছিলেন। তিনি রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাইদসহ দল ও সরকারের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে ফুল দিয়েছিলেন, সরকারি বেসরকারি সব অফিসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছিল, দেশের সব জেলা, থানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিবসটি পালিত হয়েছিল। অজানা কারণে এই দিবসটি আর পালিত হয়নি। তিনি সরকারকে শহীদদের সম্মান জানাতে এই দিবসটি পুনঃপ্রবর্তনের দাবি জানান। বর্তমান প্রজন্মের পক্ষে গবেষণাকেন্দ্র কর্মী আলম রুমি বলেন আমরা আমাদের বীর শহীদদের জানতে ও শ্রদ্ধা জানাতে একটি দিবস চাই।

এই দিবস পালন উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামের বিশাল সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা ও নতুন প্রজন্ম শহীদ মিনারে জমায়েত হন। তাদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে সবাই শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে। চট্টগ্রাম শহীদমিনাওে বক্তব্য দিতে গিয়ে গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ডা. মাহফুজ বলেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের বছর বছর শ্রদ্ধা জানাতে বঙ্গবন্ধু এই দিনে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরে অজানা কারণে এই দিবসটি আর পালিত হয়নি। মুজিব বর্ষে এসে এই দিবসটি আবার চালু করার দাবি রইলো। তিনি বলেন শুধু মাত্র বঙ্গবন্ধু আর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই যথেষ্ট নয়। বঙ্গবন্ধু ও যোদ্ধাদের স্বপ্নের বাঙলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে বাংলা চালু, একমুখী গণমুখী, প্রাথমিক অবৈতনিক বাধ্যতামুলক শিক্ষার প্রচলন, সর্বোচ্চ শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলা ভাষাকে বাধ্যতামুলক করা, দুর্নীতি রোধে জবাবদিহীমুলক প্রশাসন সৃষ্টি , অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ সৃষ্টির জন্য কাজ করতে হবে। শহীদ জায়া মুশতারি শফি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে সকল মুক্তিযোদ্ধাকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

এই দিবসটি একইভাবে যশোরে আফজাল হোসেন দুলাল, নড়াইলে আফতাব আহমদ সিকদার , পাবনায় খালেক বিশ্বাস ইশ্বরদি, নওগায় মোস্তফা মেহমুদ রাসেল, খুলনায় শেখ মোহাম্মদ কাসেম, শেরপুরে তপন পোদ্দার, কুড়িগ্রামে ইমরান আলী, নরসিংদিতে মোজাম্মেল হক, বগুড়ায় আহসানুল কবির ডালিম, বরিশালে শাহ আলম, চুয়াডাঙ্গায় ফারুক আহমদ, আশু বাঙালির পরিচালনায় অনুষ্টিত হয়। সব অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠানে নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা প্রথমে মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে । পরে সবাই মিলে শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করে।