তরমুজ চাষীদের চোখে-মুখে দু:শ্চিন্তার ছাপ!

প্রকাশিত

রাসেল কবির মুরাদ , কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি ঃ কলাপাড়াসহ দক্ষিন উপকুলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে হঠাৎ করে ভারী ,মাঝরী, হালকা ও গুড়িগুড়ি বৃষ্টির কারনে তরমুজ চাষীদের মাথায় হাত। ব্যাপক প্রতিকূল আবহাওয়া আর অজ¯্র কুয়াশায় তরমুজের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তরমুজ চাষিরা। গত সপ্তাহে টানা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে ক্ষেতের তরমুজ গাছের পাতায় পচন দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ঘনঘন কুয়াশা ও বৃষ্টির কবল থেকে ক্ষেতের তরমুজ গাছের পচন রোধে কীটনাশক ছিটিয়ে আবাদ রক্ষার প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা।

সবুজ পাতায় মোড়ানো তরমুজ গাছের চারা দেখে চাষীদের বুকে নতুন নতুন স্বপ্ন উঁকি দিয়েছিল। বিভিন্ন এলাকার কৃষি মাঠ এখন তরমুজ সবুজ গাছে ভরে গেছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় বর্তমান তরমুজ বাজার দর ভালো থাকায় সবাই সোনালি স্বপ্নের জাল বুনছিলো। তরমুজ একটি অন্যতম লাভজনক ফসল হওয়ায় অধিক লাভের আশায় আগাম আবাদ করেছিলো অনেক চাষী। কিন্তু অসময়ের বৃষ্টিতে উপকুলের তরমুজ চাষীদের সেই স্বপ্ন পানিতে ভেসে গেছে। কোন ক্ষেতে পানি জমে চারা পঁচে যাচ্ছে। আবার রোদ ওঠায় কোন ক্ষেতের পাতা শুকিয়ে নিস্তেজ হয়ে গেছে। এরফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তরমুজ চাষীরা। কিভাবে ঋণ কিংবা দাদনের টাকা পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

সরেজমিনে গিয়ে ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ ক্ষেতজুড়ে উঠতি তরমুজ চারাগুলো পানিতে ডুবে আছে। ক্ষেত থেকে পানি সরাতে কেউ নালা কাটছে, কেউ সেচ করছে। কেউবা পাওয়ার পাম্প লাগিয়ে পানি নিষ্কাশনের প্রাণপন চেষ্টা করছে। এরমধ্যে নতুন করে রোদ ওঠায় সেই কষ্ট অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়। কৃষকরা জানায়, অসময়ের বৃষ্টির এ অশনি সংকেতের কারণে মৌসুমের শুরুতেই অনেকে তরমুজ চাষাবাদে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এ বৃষ্টিতে শুধু তরমুজের নয়, রবিশস্যেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে কৃষি বিভাগের তথ্য মতে। দুঃখ কষ্টে অনেক তরমুজ চাষী ক্ষেতের ধারে আসে না। পৌষ মাসে বৃষ্টি হবে কারো চিন্তায় ছিলোনা। এবার ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে আমনেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, বাজারদর মন্দা থাকায় কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে তরমুজ চাষ করেছে অনেকে। কিন্তু অসময়ের বৃষ্টিতে সেই স্বপ্ন দু:স্বপ্নতে পরিনত হয়েছে। লাভতো দূরের কথা, ঋণ কিংবা দাদনের টাকা পরিশোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে তারা। কৃষক এবার মাঠে মাইর খাইছে।

গঙ্গামতি তরমুজ চাষী আবুল বশার শিকদার জানান, ক্ষেতে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা চলছে আমার বালি জমিতে তরমুজ চারা গুলো মোটামুটি ভাল আছে মাটির অংশভাগের তরমুজ চারাগুলো রোদ ওঠার সাথে সাথে গাছ হেলে পড়েছে। এরচেয়ে আকাশ মেঘলা থাকলে কিছু চারা টিকানো যেতে মনে হয়। ধানখালী লোন্দাগ্রামের কালাম তালুকদার বলেন, তরনুজ চাষীরা কেউ ঢাকা, আবার কেউ স্থানীয়ভাবে দাদন নেওয়া, অনেকে আবার ঋণ করেছে। কিন্তু বৃষ্টির পানিতে সব ভেসে গেছে। মোটামুটি চারা ভালোই হইছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে চারা না বাঁচার সম্ভাবনাই বেশি। পরের থেকে যারা লোন করে ক্ষেত করছে, দ্বিতীয়বার যাদের দেওয়ার ক্ষমতা নাই সেসব তরমুজ চাষীরা বৃষ্টিতে শেষ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে উপজেলায় ৩৫০০ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৪৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করা হয়েছে। টানা ২/৩দিনের বৃষ্টিতে ৩৫০ হেক্টর জমির উঠতি চারার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। শতকরা ৮০ শতাংশ তরমুজ ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষি বিভাগ।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান এ ব্যাপারে বলেন, সামনে আর বৃষ্টি না হলে ক্ষতির পরিমাণ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে যেসব তরমুজ চারা ভাল আছে তা আর মারা যাবেনা। যেগুলো পচন ধরেছে তা আর টিকবেনা। তরমুজ চাষিদের গাছের পচন রোধে নইন নামক ছত্রাকনাশক কীটনাশক ছিটিয়ে দিতে বলা হয়েছে।

error0