তাবিথের ওপর হামলা ষড়যন্ত্র কিনা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের ওপর যে হামলা হয়েছে সেটি বিএনপির ‘নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রক্রিয়ার অংশ’ কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। মঙ্গলবার সচিবালয়ে চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির নবনির্বাচিত পরিষদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গাবতলীতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের ওপর হামলা হয়েছে। তাবিথ অভিযোগ করেন, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর নেতৃত্বে এই হামলা হয়।

সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথমত বিষয়টি আমি আপনার কাছেই জানলাম। কারণ আমি এতক্ষণ একনেকের সভায় ছিলাম। বিষয়টা পুরোপুরিভাবে না জেনে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। দ্বিতীয়ত, আমি মনে করি নির্বাচনের পরিবেশকে ঘোলাটে করার জন্য একটি পক্ষ সক্রিয়। এটি সে পক্ষেরই কারসাজি কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিএনপির প্রথম থেকে প্রচেষ্টা হচ্ছে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। সুতরাং নানা ধরনের ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যে প্রক্রিয়া সেটি তার অংশ কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে কিনা-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে। তিনি আরো বলেন, ভারত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ। সেখানে মন্ত্রীরা প্রটোকল বাদ দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। আর এমপিরা তো পারেনই। সংসদীয় গণতন্ত্রের সূতিকাগার যুক্তরাজ্যেও (মন্ত্রীরা) এটি পারেন। অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেও এটি পারেন। কিন্তু আমাদের দেশে আমরা পারছি না।

চট্টগ্রামে ৩২ বছর পর শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা মামলার রায়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কিন্তু এই গণহত্যা চালানোর জন্য ঢাকা থেকে যারা নির্দেশ দিয়েছিল তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে সেদিনের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। কারণ, সেদিন অনেক লাশ ঘুম করে ফেলা হয়েছিল। অনেকগুলো লাশ গুম করে ফেলার কারণে হিসাবটা কমে আসে।

একই সঙ্গে সিপিবির সমাবেশে হামলা মামলার রায়েও সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক শক্তিকে ধ্বংস করার জন্যই হামলাগুলো চালানো হয়েছিল। যারাই হামলাগুলো পরিচালোনা করেছিল তাদের উত্তরসূরিরা কিন্তু এখনো সক্রিয়। এজন্য আমাদেরকে এখনো সতর্ক থাকতে হবে।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রথম আলোর সম্পাদকসহ কয়েকজনের হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার মাধ্যমে এটাই প্রমাণ হয়, দেশের আইন ও আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করছে।