তাবিথের মামলার খবর নেই, গোপীবাগে বিএনপির ৫ কর্মী রিমান্ডে

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনের প্রচারণায় হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে সাংবাদিকসহ উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হলেও মামলা হয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামেই। ওই ঘটনার একদিন পরেই ৫ বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, সিসি টিভির ফুটেজের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা হয়। পরে তাদের রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সোহেল, তুহিন, বিল্লাল, ফারুক ও মুন্না। তাদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাওয়া হবে।

এর আগে এই ঘটনার দিন রবিবার (২৬ জানুয়ারি) রাতেই আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা মাকসুদ আহমেদ ওয়ারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের ৫০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় দেড়শ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে মাঠে নামে।

সোমবার দুপুরে ওয়ারি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. হান্নানুল ইসলাম জানান, বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলের আশপাশের বেশকিছু সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।

ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) নূরুল আমিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা মামলার তদন্ত করছি। যাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে তারা আওয়ামী লীগ নাকি বিএনপির কর্মী সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। তারা সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত ছিল এমনটা প্রমাণ পেয়েই গ্রেফতার করা হয়েছে। নিরপরাধ কাউকে গ্রেফতার করা হবে না।’

এদিকে ইশরাকের প্রচারণায় সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের ওপর হামলার ঘটনায় দৃশ্যমান কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।

গত ২১ জানুয়ারি তাবিথ আউয়ালের ওপর হামলার ঘটনায় রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে রাজধানীর গাবতলীতে ওই ঘটনায় দারুসসালাম থানায় মামলা করতে গিয়েও ব্যর্থ হন তাবিথ আউয়ালের সহকারী আমজাদ হোসেন শাহাদাৎ।

ওইদিন তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ‘ওসির কক্ষে প্রায় দেড়ঘণ্টা বসে থেকেও তিনি মামলা করতে পারেননি। ওসি তাকে বলেছেন, বিষয়টি তারা দেখছেন।’ পরে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেয় বিএনপি।

তবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাবিথ আউয়ালের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু তিনি নির্বাচন কমিশনে যে অভিযোগ দিয়েছেন সেটির সঙ্গে থানায় দেওয়া অভিযোগের বৈপরীত্য আছে। অভিযোগের তদন্ত চলছে। সত্যতা পাওয়া গেলে এটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে।’