তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও বাড়ছে দুর্ভোগ 

প্রকাশিত

আজিজুল ইসলাম বারী  ,লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি শনিবার সকাল থেকে কমতে শুরু করেছে। শুক্রবার রাত ১২ টায় জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৮ সে:মি: উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও শনিবার সকালে তা কমে বিপদসীমার ২০ সে:মি: উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় পানির চাপ একটু কমলেও পানি বন্দি লোকজনের দূভোর্গ কমেনি। তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে গোটা জেলার কয়েক হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।
সড়ে জমিন ঘুরে ও খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, এ বারের ৩য় দফা এ বন্যায় সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের। ওই ইউনিয়নের তালেব মোড় এলাকায় একটি বাঁধ ধসে যাচ্ছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় লোকজন বালু বস্তা ফেলে বাঁধটি রক্ষার চেষ্টাও করছে।
ওই বাঁধটি ভেঙ্গে গেল তিস্তা নদীর পানি হাতীবান্ধা শহরে ঢুকে পড়বে। ফলে ওই বাঁধটি সংস্কার করা জরুরী প্রয়োজন দেখা দিলেও এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ স্থানীয় প্রশাসনের কোনো কার্যক্রম চোখ পড়ছে না এমন অভিযোগ করেন গড্ডিমারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা: আতিয়ার রহমান।
এ দিকে পানিবন্দি লোকজনের মাঝে এখনো ত্রাণ বা কোনো খাবার বিতরণ করা হয়নি। তাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ জরুরী হয়ে পড়েছে। বেশ কিছু পানিবন্দি পরিবার গড্ডিমারী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন কলেজে আশ্রয় নিয়েছেন। সকালে ওই কলেজের অধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামল তাদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন। রাতেই পানিবন্দি এলাকা পরিদর্শন করেছেন হাতীবান্ধার ইউএনও সামিউল আমিন ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র ডালিয়া শাখার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হাফিজুল হক বলেন, ‘এ বারের বন্যা একটু স্থায়ী হতে পারে। ফলে কয়েক দিন তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হবে।’

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, ‘ইউএনও ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বন্যা পরিস্থিতির খবর নেয়া হচ্ছে। তাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের প্রস্তুতি চলছে। ’