দুর্নীতিবাজরা আমাদের নজরদারিতে আছে, সময়মতো ব্যবস্থা: কাদের

প্রকাশিত

নড়াইল প্রতিনিধি: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘দুর্নীতিবাজরা আমাদের নজরদারিতে আছে। দলে শুদ্ধি অভিযান চলছে। দুর্নীতিবাজদের কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। সময়মতো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আজ মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দলে সৎ ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সন্ত্রাস-দুর্নীতি, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। এ শুদ্ধি অভিযান সবাই মিলে সফল করতে হবে।’ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দুর্নীতিকে না বলুন, সন্ত্রাসকে না বলুন, মাদককে না বলুন, টেন্ডারবাজিকে না বলুন, চাঁদাবাজিকে না বলুন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিতর্কিতদের দলে টানবেন না। আওয়ামী লীগে হায়ার করা কর্মীদের আনার দরকার নেই। ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে আত্মীয়-স্বজনকে আওয়ামী লীগের কমিটিতে আনা চলবে না। ত্যাগী দলীয় নেতাকর্মীদের কোনোভাবেই কোণঠাসা করা চলবে না। দুঃসময়ের কাণ্ডারি কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করে দলে তাদের যথাযথ স্থানে ঠাঁই দিতে হবে। দলীয় সভা-সমাবেশে ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন, তোরণ কম বানিয়ে সেই টাকা অসহায়-দুস্থ নেতাকর্মীদের পেছনে ব্যয় করুন।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দূরের স্বপ্নকে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা কাছে নিয়ে এসেছেন। পদ্মা সেতু নির্মাণ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, পায়রা সমুদ্রবন্দর স্থাপন, ঢাকায় মেট্রোরেল চালুর পদক্ষেপ, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, সমুদ্র বিজয়সহ নানা উন্নয়ন এর প্রমাণ বহন করে। দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে পৌঁছে গেছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন বলেই উন্নয়নে বাংলাদেশ বিশ্বের রোল মডেল। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন বলে জাতির পিতার হত্যাকারীদের এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দলের দুঃসময়ের সাহসী কাণ্ডারি।’

সম্মেলন উপলক্ষে কলেজ মাঠের সুলতান মঞ্চ চত্বরে নৌকার আদলে মঞ্চ তৈরি করা হয়। সম্মেলনে সম্মানিত অতিথির বক্তৃতায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘বিএনপি আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। নৈরাজ্য সৃষ্টি করে বিএনপি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। বিএনপি বিচার মানে না, আদালত মানে না। বিএনপি যদি রাজনৈতিকভাবে আন্দোলন করে, আমরা তা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করবো। কিন্তু তারা যদি আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করে, তাহলে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ত্রিবার্ষিক সম্মেলন পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য্য। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান। সম্মানিত বক্তা ছিলেন শেখ সারহান নাসের তন্ময় এমপি। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন জাতীয় সংসদের হুইপ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এসএম কামাল হোসেন, পারভীন জামান কল্পনা। বিশেষ বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট ওয়ানডে দলের অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মোর্তজা, নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি।

সম্মেলন শেষে নতুন কমিটির সভাপতি হিসেবে বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন খান নিলু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পৌর মেয়র মো. জাহাঙ্গীর বিশ্বাস এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।