দেশজুড়ে দায়িত্ব পালন করেছে সশস্ত্র বাহিনী

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ ডেস্ক: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং সামাজিক দূরত্ব ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে সারাদেশে দায়িত্ব পালন শুরু করেছে সশস্ত্র বাহিনী। বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলো এবং উপকূলীয় এলাকায় ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী কাজ শুরু করেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দেশের বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে তাদের। বিস্তারিত জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে।

মানিকগঞ্জ
দুপুরে মানিকগঞ্জ শহরে গাড়িতে সেনা সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। এ সময় জেলা পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক দুপুর থেকে শপিং মল, বাণিজ্যকেন্দ্র, রেস্টুরেন্ট, বিনোদন পার্ক, মেলা, সামাজিক অনুষ্ঠান, সাপ্তাহিক হাট, চায়ের দোকানের আড্ডাসহ জনসমাগম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। সব ক্ষুদ্র ঋণ আদায় কার্যক্রমও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সব দোকান, কাঁচাবাজার, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে।

রাঙামাটি
রাঙামাটিতে জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত টিম করোনা প্রতিরোধে মাঠে নেমেছে। বিকালে এই টিম শহরের পাথরঘাটা, পাবলিক হেলথ, কলেজে গেট, ভেদভেদীসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। এই সময় হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের বাসায় গিয়ে সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহ করা হয়। কেউ সম্প্রীতি সময়ে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে বাইরে ঘুরছেন কিনা সে বিষয়ে তদারকি করা হয়।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পল্লব হোম দাশ বলেন, ‘জনগণকে সচেতন করার জন্য অভিযান শুরু হয়েছে। সরকারের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই অভিযান চলবে। আমাদের মূল কাজ প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা।’

খুলনা
খুলনায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা কার্যক্রম শুরু করেছেন। দুপুরে খুলনা সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে খুলনা বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় উপস্থিত ছিলেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আই কে এম মোস্তাহসেনুল বাকী।

মেহেরপুর
বগুড়া সেনানিবাস থেকে ৪০ ফিল্ড আর্টিলারি রেজিমেন্টর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফখরুদ্দীনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর সদস্যরা মেহেরপুর পৌঁছেছেন। দুপুরে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আতাউল গনির সভাপতিত্বে যৌথ সভায় বক্তব্য রাখেন বগুড়া সেনা ক্যাম্পের ৪০ ফিল্ড আর্টিলারি রেজিমেন্ট অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফখরুদ্দিন, পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলি, সিভিল সার্জন ডাক্তার নাসির উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান ও ক্যাপ্টেন রাকিব। সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩০৪ প্রবাসীর বাড়িতে লাল পতাকা লাগানো হয়েছে।

দিনাজপুর
আগামী বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) থেকে দিনাজপুরে সেনাবাহিনী মাঠে নামবে। দুপুরে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সেনাবাহিনীর বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম, পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন, সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল মামুনুর রহমান সিদ্দিকী, মেজর এসএম মমিনুল ইসলাম, মেজর আরিফ, বিজিবির লে. কর্নেল রেজাউল করিম, র‍্যাব-১৩ ডিএডি মোফাজ্জল হোসেন প্রমুখ। বৈঠকে জানানো হয়, করোনা প্রতিরোধে তিনটি ইউনিটে বিভক্ত হয়ে রংপুরে সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করবে।

টাঙ্গাইল
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনকে সহায়তার জন্য টাঙ্গাইলে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সকালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল শহীদ সালাউদ্দিন সেনানিবাসের লে. কর্নেল সোহেলের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় সেনাবাহিনী প্রশাসনকে সহায়তার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

যশোর
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী যশোরে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। প্রাথমিক পর্যায়ে তারা প্রশাসনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে সেনা সদস্যদের একটি টিম যশোরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে। যশোর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লে. কর্নেল নেয়ামুল ইসলাম বলেন, ‘হোম কোয়ারেন্টিনে যারা আছেন তাদের কারণে যেন সাধারণ মানুষ আক্রান্ত না হন সেজন্য সব উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

নারায়ণগঞ্জ
দুপুর ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এরআগে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সিভিল সার্জনসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা। পরে সেনাবাহিনী নগরীর বিভিন্ন রাস্তায় টহল শুরু করেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল আব্দুল মোত্তাকীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, সিভিল সার্জন ইমতিয়াজ আহমেদসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

গোপালগঞ্জ
করোনাভাইরাস মোকাবিলা, প্রতিরোধ ও জনসমাগমকে নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর টিম গোপালগঞ্জে কাজ শুরু করেছে। দুপুরে তারা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এ সময় পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জন উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা জানান, একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি টিম প্রথমে বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে। পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।

রংপুর
করোনা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসক কক্ষে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে প্রস্তুতি সভা করেছে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা। রংপুরে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করবে সেনাবাহিনী। সভা শেষে জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানান, সারাদেশের মতো রংপুর প্রশাসনের সঙ্গে সেনাবাহিনীর দল করোনা মোকাবিলায় কাজ করবে। বিদেশফেরত ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করবে।

নাটোর
নাটোরে সেনাবাহিনী অবস্থান নেবে বুধবার (২৫ মার্চ)। শহরের হরিশপুর এলাকার টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটে এসে অবস্থান নেবে তারা। এরপর বৃহস্পতিবার একটি মেডিক্যাল টিমসহ মাঠে নামবে সেনাবাহিনী। এ সময় তাদের সঙ্গে যুক্ত হবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাহরিয়াজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

error4
Tweet 20