‘ধর্ষকের শাস্তি ফাঁসি ফাঁসি’ স্লোগানে আজও উত্তাল ঢাবি ক্যাম্পাস

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় নানা কর্মসূচি ও স্লোগানে আজও উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সেশন, ব্যাচভিত্তিক আলাদাভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছেন।

ধর্ষকের শাস্তি ফাঁসির আইন কার্যকর করার দাবিতে সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মানববন্ধন করেছে বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২ টায় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে ডাকসুর সদস্য তানভীর হাসান সৈকতের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুমের শিক্ষার্থীরা কালো পতাকা মিছিল বের করেন। মিছিলটি সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে ধর্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ করার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

এসময় তানভীর হাসান সৈকত বলেন, সামাজিক কাঠামো নষ্ট হয়ে নারী যখন পণ্য হয় পুরুষতন্ত্রের মগজে, সেখানে চুপ থাকা দায়। আজ হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে ধর্ষণের মত বর্বরোচিত ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটায় গণমাধ্যমসহ সকল স্তরের মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। কিন্তু আমার অজপাড়াগাঁয়ে, প্রান্তিক বোনদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া প্রতিনিয়ত ধর্ষণের বিচার আদৌ হয় কি? দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এসময় মানববন্ধনে এ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বলেন, আমাদের ছাত্রীকে যে ধর্ষণ করেছে সেই নরপিশাচের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করছি। এছাড়া আমাদের এই প্রাণপ্রিয় ক্যাম্পাসে শত শত মজনু অবাধে বিচরণ করছে। অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই মজনুদের কারণে ছাত্রীরা ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারছেন না। অনেক ভবঘুরে মাদকাসক্তেরও বিচরণ এই ক্যাম্পাসে। তাই এই ক্যাম্পাসকে বহিরাগত মুক্ত করতে হবে।

এছাড়া সকাল ১১ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত রাজু ভাস্কর্যের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি ও ফ্ল্যাশমব করেছে শিক্ষার্থীরা।

এসময় শিক্ষার্থীরা ‘আজ না হলে হবে কবে? টনক তোমার নড়বে কবে?’ ‘ধর্ষকের শাস্তি, ফাঁসি ফাঁসি’ ‘আমার সোনার বাংলায় ধর্ষকের ঠাই নাই’ ধর্ষকের কালো হাত, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’ ‘আমার বোন ধর্ষিত কেন, প্রশাসন জবাব চাই,’ ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয়বর্ষের এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ঘটনার পর থেকে বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।