বিভাগ - জাতীয়

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, প্রয়োজনে ক্রসফায়ারের দাবি সংসদে

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা। প্রয়োজনে বন্দুকযুদ্ধে গুলি করে মেরে ফেলার দাবি জানান তারা।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় একাদশ জাতীয় সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশনের তৃতীয় দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি করেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু।

পরে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদও একই দাবি জানালে তাদের সঙ্গে একমত পোষণ করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ভারতে একবার বাসে এক নারীকে পাঁচজনে ধর্ষণ করে। পরে সেখানে ওই পাঁচজনকে গ্রেফতার করে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলা হয়। তারপর ভারতে ধর্ষণের ঘটনা কমে যায়। কাজেই আমি অন্য দুই সদস্যের সঙ্গে একমত। আমি যদি চিনি যে ওনি ধর্ষক, সেই এ কাজ করেছে, তার আর এই পৃথিবীতে থাকার অধিকার নেই।’

জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘টাঙ্গাইলে বাসে ধর্ষণের পর পুলিশ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে। সেদিন যদি পুলিশ তাদের মধুপুরে নিয়ে গুলি করে মারত, তাহলে আবার ধর্ষণের ঘটনা ঘটত না।’

তিনি বলেন, ‘একটার পর একটা ধর্ষণ হচ্ছে। মেয়েরা বাসে ওঠে, ওই বাসে আগে থেকেই চার-পাঁচ জন থাকে। নারীরা ওঠার পর দেখা যায় যাত্রী না ওরা ধর্ষক। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের পর একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হোক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য, সেখানে গুলি করে মারা হোক।’

তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ষকদের একমাত্র শাস্তি এনকাউন্টারে দিয়ে মেরে ফেলা। আর কোনো ধর্ষক যেন সাহস না পায়। ধর্ষক গ্রেফতার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিয়ে ওইখানে গুলি করে মেরে ফেলা হোক।’

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘ঢাবি ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হলো। ধর্ষণের পর যদিও সরকারের পক্ষ থেকে জরুরিভাবে সেই ধর্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পরও জনমনে অনেক প্রশ্ন এটার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের পর পরই সাভারে একটি ধর্ষণ করা হয়, সেখানে মেয়েটিকে হত্যা করা হয়। এরপর ধামরাইতে একই ঘটনা ঘটে।’ তিনি পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘২০১৯ সাল ধর্ষণের মহাৎসব। এটা সঠিক।’ এজন্য তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘কেন ধর্ষণের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কি? এজন্য সংসদে দুই ঘণ্টার আলোচনার দাবি করছি।’

মুজিবুল হক চুন্নু আরও বলেন, ‘আমাদের দলের প্রেসিডেন্ট এইচ এম এরশাদ যখন ক্ষমতায় ছিলেন, ওই সময় অ্যাসিড হত্যাকাণ্ড বেড়ে যায়, তখন এরশাদ সাহেব ওটাকে প্রতিরোধে অ্যাসিড নিক্ষেপ প্রমাণিত হলে অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ডের বিধান করে।’

এছাড়া ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে ধর্ষণ কন্ট্রোল হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সময় এসেছে চিন্তা করার, ধর্ষণের দায় যদি প্রমাণ হয় তার সাজা যাবজ্জীবন না দিয়ে, মৃত্যুদণ্ডের ব্যবস্থা করা হোক।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘এত ঘটনা ঘটছে, মাদকের জন্য এত ক্রসফায়ার হচ্ছে, সমানে বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়, এই ধর্ষণের মত জঘন্য অপরাধ, জঘন্য ঘটনার জন্য কেন আজ পর্যন্ত একটা বন্দুকযুদ্ধে মারা যায় না? বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে যদি ব্যবস্থা না নেওয়া যায় কোনো ক্রমেই কেন্ট্রাল হবে না।’

তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, ‘টপি-দাঁড়ি মাথায় নিয়ে আল্লাহকে হাজির নাজির করে বলছি এদের ক্রসফায়ার করলে বেহেস্তে যাওয়া যাবে। কোনো অসুবিধা নাই।’