নদীর তীর কেটে মাটি কাটার অপরাধে রুই-কাতলাকে ছাড় দিয়ে চুনোপুটির জেল-জরিমানা

প্রকাশিত

রাসেল কবির মুরাদ , কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি ঃ কলাপাড়ায় সরকারী জমিতে মাটি কেটে ঘের করার অপরাধে হাতেনাতে পাওয়া অভিযোগের পরও রুই কাতলাকে ছেড়ে দিয়ে চুনোপুটিকে নিয়ে টানা টানি করলো উপজেলা ভূমি প্রশাসন। মঙ্গলবার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের রহমতপুর গ্রামের এ ঘটনা এলাকায় রহস্যজনক ও মুখরোচক হাসি-ঠাট্টার জন্ম দেয়।
নীলগঞ্জ ইউনিয়নের রহমতপুর গ্রামে, আন্ধারমানিক নদী সংলগ্ন এলাকার সোনাতলা মৌজায় সরকারের অন্তত: ৩০ একর জমি রয়েছে। প্রভাবশালী মহল স্থানীয় ভূমি প্রশাসনের জ্ঞাত সারে বেশ কিছু দিন ধরে সরকারী ওই সম্পত্তিতে মাটি কেটে মাছের ঘেরের বেড়িবাঁধ তৈরী করে ঘের নির্মান করার প্রক্রিয়া করছিল। সোমবার গনমাধ্যম কর্মীরা উক্ত এলাকায় গিয়ে সরকারী জমির উপর প্রভাবশালী মহলের ওই ঘের করার স্থির ও ভিডিও চিত্র ধারন করার পর নড়ে-চড়ে বসে স্থানীয় ভূমি প্রশাসন। মঙ্গলবার কলাপাড়া সহকারী কমিশনার জগৎবন্ধু মন্ডল, তহশিলদার আ: জব্বার, অফিস সহকারী উবাশো ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। এসময় প্রভাবশালী গিয়াস উদ্দীন ফকির ভেকু মেশিন ব্যবহার করে সরকারী জমির উপর মাছের ঘের করার জন্য মাটি কেটে ঘেরের বেড়িবাঁধ নির্মান কাজ করছিল। রহস্যজনক কারনে প্রভাবশালী গিয়াস উদ্দীন ফকিরকে সরে যাওয়ার সুযোগ দিয়ে ভেকু ড্রাইভার দিনমজুর রাসেল (২৫) কে আটক করে ভূমি প্রশাসন। এরপর বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০-এর (৪) ধারা অনুসারে ভেকু ড্রাইভার রাসেলকে ২০দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড সহ ৫০ হাজার টাকার অর্থ দন্ড প্রদান করে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জগৎবন্ধু মন্ডল। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য গনমাধ্যমকে সহকারীর কাছ থেকে নিতে বললে উবাশো বাবু ফোন রিসিভ করেননি। তবে দন্ডিত ভেকু ড্রাইভার রাসেলের অর্থ দন্ডের টাকা সাথে সাথে জমা দিয়ে দেয় গিয়াস উদ্দীন ফকির। কিন্তু মাটি কাটার ভেকু মেশিনটি জব্দ করেনি প্রশাসন। এরপর গনমাধ্যম কর্মীদের কাছ থেকে খবর শুনে ইউএনও ভেকু মেশিনটি জব্দ করে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের জিম্মায় দিতে বলেন এসি ল্যান্ডকে।
এদিকে সরকারী জমি রক্ষার দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের রহস্যজনক আচরনে প্রভাবশালীদের সাথে ভূমি অফিসের আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে পড়ায় এলাকায় মুখরোচক গুঞ্জন শুরু হয়। পর্যটন এলাকা সমৃদ্ধ কলাপাড়ায় প্রতিদিন সরকারের কোটি টাকা মূল্যের খাস জমি বেহাত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এনিয়ে যেন কোনই দায় নেই। অনেকটা বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাধঁবে কে সেই অবস্থা।
তহশিলদার আ: জব্বার বলেন, আমরা যাকে হাতে-নাতে পেয়েছি তাকে গ্রেফতার করে দন্ড প্রদান করা হয়েছে। তিনি সরকারী জমিতে ঘের নির্মানের জন্য মাটি কাটার অভিযোগে অভিযুক্ত প্রভাবশালীর নামে মামলা করা হবে কিনা তা জানেন না।
সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জগৎ বন্ধু মন্ডল বলেন, ভ্রাম্যমান আদালতে দুই দোকানীকে অর্থ দন্ড এবং এক ভেকু ড্রাইভারকে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড সহ ৫০ হাজার টাকার অর্থ দন্ড প্রদান করা হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য সহকারী উবাশো বাবু’র কাছ থেকে জেনে নেওয়ার জন্য বলেন।