নাগরিকত্ব আইন উপমহাদেশে সংঘাত সৃষ্টি করবে: মির্জা আলমগীর

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি উসকে দেওয়ার পাশাপাশি সংঘাত সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে এসে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, নাগরিকত্ব তালিকার (এনআরসি) পর সিএবি পাসের জেরেও ভারতের বাংলাদেশ সংলগ্ন কয়েকটি রাজ্যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিলটি বাতিলের দাবি শুরু থেকেই উঠেছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত আইন হয়ে গেলো। এই ধরনের আইন উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি উসকে দেবার পাশাপাশি সংঘাত সৃষ্টি করবে। আমরা উপমহাদেশে সবাই মিলেমিশে বসবাস করি। সবার মধ্যে একটা সম্প্রীতি রয়েছে। কিন্তু ভারতের সরকার শুধু ভারতে সমস্যা সৃষ্টি করবে না, উপমহাদেশে সংঘাত সৃষ্টি করবে।

তিনি বলেন, ভারতে আজকে যে অবস্থা তৈরি হয়েছি, এটা শুধু বাংলাদেশে না সমগ্র উপমহাদেশের অঞ্চলে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। সংঘাতের সৃষ্টি করবে। রাজনীতির যে মূল বিষয়গুলো ছিল, উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাজনীতি, অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি, সে বিষয়গুলোকে ধ্বংস করে দিয়ে একটা সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াস চালানো হচ্ছে।

স্বাধীনতা যুদ্ধের যে চেতনা, স্বাধীন স্বার্বভৌম গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার যে স্বপ্ন, সেটা বর্তমানের আওয়ামী অগণতান্ত্রিক সরকার ভেঙে খান খান করে দিয়েছে বলেও দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের যিনি ঘোষণা দিয়েছেন সেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আজকে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। যেসবক বুদ্ধিজীবী যারা স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎস্বর্গ করছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের কথা স্বাধীনতা যুদ্ধের যিনি ঘোষণা দিয়েছেন তাঁর সহধর্মিনী (খালেদা জিয়া) তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হযেছেন, নিগৃহীত হয়েছেন, বন্দি হয়েছেন, তাকে আজকে কারাগারে থাকতে হচ্ছে। ’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের যে চেতনা, আমাদের স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবার যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্ন বর্তমান অগণতান্ত্রিক সরকার তা আজকে ভেঙে খান খান করে দিয়েছে। তারা বাংলাদেশের অর্জনগুলোকে, জাতির অর্জনগুলোকে ধ্বংস করে ফেলেছে। আমরা আজকে একটা গণতন্ত্রবিহীন, জনগণের অধিকারবিহীন একটা অবস্থার মধ্যে বিরাজ করছি।’

তিনি বলেন, ‘আজকে যখন আমাদের নেত্রী কারাগারে, যখন আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাগারে মিথ্যা মামলায় আজকে গণতান্ত্রিক সবদলগুলোকে স্তব্ধ করে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে, বিএনপিকে যখন নির্মূল করার চেষ্টা হচ্ছে সেই সময়ে আজকে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন যেটা হচ্ছে সমস্ত জাতির ঐক্য। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার জন্য আজকে সবাইকে সংগ্রাম করতে হবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে আমাদের এই দিনে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পথ অনুসরণ করে, দেশের স্বাধীনতাকে স্বার্বভৌমত্ব রক্ষা করবার জন্য, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য, আমাদের সংগ্রামের আরও গতি বাড়াবো, সংগ্রামকে আরও বেগবান করবো। ইনশাআল্লাহ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিজয় অর্জন করবো। ’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ন-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ।