নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন ঢাকার দুই সিটির ভোটগ্রহণ, চলছে গণনা

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: দিনভর বিরোধীদলের প্রার্থীদের অভিযোগ, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ইভিএম বিভ্রাট, এজেন্ট ঢুকতে না দেওয়া, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াসহ নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ভোটগ্রহণ। এখন চলছে গণনা। এরপর ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) সম্পন্ন এ নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে।

শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। যা টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। এবার ঢাকার দুই সিটিতে প্রথমবারের মতো ২ হাজার ৪৬৮টি ভোটকেন্দ্রের ১৪ হাজার ৪৩৪টি ভোটকক্ষে ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দুই সিটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৫৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৬৭ জন। এর মধ্যে ২৬ লাখ ২০ হাজার ৪৫৯ জন নারী ভোটার।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মোট ভোটার হচ্ছে ৩০ লাখ ১০ হাজার ২৭৩ জন। এর মধ্যে নারী ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৭০৬ জন। আর ডিএসসিসিতে ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৪ জন ভোটার রয়েছেন; যাদের মধ্যে নারী ভোটার ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৫৩ জন।

এদিকে সকাল আটটায় ভোট শুরু হওয়ার পর থেকেই কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেওয়া, এজেন্টদের ঢুকতে না দেওয়াসহ নানা অভিযোগ করতে থাকেন বিএনপির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। এমনকি কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপরও হামলার অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

তবে দুই সিটিতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টা সম্পূর্ণ অমূলক। তাদের (বিএনপি) তেমন সাংগঠনিক কাঠামো নেই, তাই তারা আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। নিশ্চিত পরাজয় জেনে এসব অভিযোগ করছে তারা।

বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেন, অনেক কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্ট প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে শেষ দৃশ্য দেখার জন্য ভোটের মাঠে আছি। দেখি নির্বাচন কমিশনের মনোভাব বদলায় কি-না। আমরা হাল ছাড়ছি না। মনোবল ভাঙছি না।

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারও একটি কেন্দ্রে গিয়ে বিরোধী দলের প্রার্থীদের কোনো এজেন্টকে পাননি বলে জানিয়েছেন সাংবাদিকদের। আর মোহাম্মদপুরের সাদেক খান রোড এলাকায় কুপিয়ে সাংবাদিক মুস্তাফিজুর রহমান সুমনকে জখম করে এক কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকেরা।

এদিকে সকালে ভোট শুরুর পরপরই দুই সিটির বিভিন্ন কেন্দ্রে ইভিএম বিভ্রাট দেখা দেয়। এতে অনেকের ভোট দিতে কমপক্ষে ৪০ মিনিটের মতো লেগেছে বলেও জানিয়েছেন ভোটাররা। আবার অনেকের আঙুলের ছাপ মেলেনি।

এর মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাও রয়েছেন। পরে তিনি বাধ্য হয়ে আইডি কার্র্ডের মাধ্যমেই নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন সিইসি। ইভিএম-এ আঙুলের ছাপ মেলেনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীরও। আর ইভিএম’র ওপর আস্থা কম থাকায় ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি কম বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

অন্যদিকে ইভিএম নিয়ে আগে থেকেই নানা অভিযোগ করে আসছিল বিএনপি। এ বিষয়ে ভোট দেওয়ার পর ঢাকা দক্ষিণে বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, ইভিএমর প্রতি আমাদের আস্থা নেই। ইভিএমে প্রোগ্রামে ত্রুটিযুক্ত হতে পারে।

‘আমাকেই তিনবার ট্রেনিং নেওয়া লেগেছে ভোট দেওয়ার জন্য। তাহলে সাধারণ ভোটার কীভাবে বুঝবে ইভিএম বিষয়ে। ইভিএম নিয়ে আমাদের আগের বক্তব্যের পরিবর্তন হবে না। তবে ভোট সুষ্ঠুভাবে দিতে পারলে আমরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করবো।’

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক কেন্দ্রেই ভোটারের উপস্থিতি কম। তবে কোনো কোনো কেন্দ্রে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়। ভোটার উপস্থিতি কম বিষয়ে সিইসি কেএম নূরুল হুদা বলেন, মাদারটেক এলাকায় হামলায় আহত হয়েছেন ফটো সাংবাদিক শেখ হাসান।