বিভাগ - সারাদেশ

নারায়ণগঞ্জ বার নির্বাচন: প্রতিদ্ব‌ন্দ্বীতা ছাড়াই বিজয়ী আ.লীগ সমর্থিত মোহসীন-মাহবুবুর প্যানেল

প্রকাশিত

নারায়ণগঞ্জ প্রতি‌নি‌ধি: নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে প্রতিদ্ব‌ন্দ্বীতা ছাড়াই জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মোহসীন-মাহবুবুর প্যানেলের ১৭ প্রার্থী। ‌নির্বাচ‌নের আগের দিন বিএনপি প্যানেল ও স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করায় অ‌নেকটা প্রতি‌যোগীতা ছাড়াই নির্বাচিত হলেন তারা। বুধবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে নিয়মরক্ষার ভোটগ্রহণ। পরে ভোট গণনা শেষে রাত ৯টায় আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

গত মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) নির্বাচ‌নের ঠিক ১৯ ঘন্টা অা‌গে নির্বাচন ক‌মিশ‌নের প্রতি অানাস্থা জা‌নি‌য়ে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী পরিষদ প্যানেল সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও সরকার দলীয় প্রার্থীদের সুবিধা প্রদানের অভিযোগ এনে তারা নির্বাচন বর্জন করেন। এ সময় নির্বাচন কমিশনারদের নাম লিখিত কুশপুত্তলিকাও পোড়ান তারা। শুরু থেকেই এই কমিশনের বিরুদ্ধে অবস্থান ছিল বিএনপি প্যানেলের প্রার্থীদের। বিএনপির ভোট বর্জনের কিছুক্ষন পরই স্বতন্ত্র দুই প্রার্থীও ভোট বর্জন করেন। ত‌বে, আপত্তি থাকা সত্ত্বে আখতার কমিশনের অধীনে থেকেই শুরু থে‌কে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে আসছিল বিএনপি।

এ‌দি‌কে, এবারের নির্বাচনে বিএন‌পি সমর্থিত হুমায়ুন-জা‌কির প্যানেল গত নির্বাচ‌নের চে‌য়ে আরো বেশি অগোছালো ছি‌লো। বিগত নির্বাচনের মত তেমন কোন প্রচারণাও দেখা যায়নি বিএনপি প্যানেলের। অনেকটা হালছাড়াভাবেই বিএনপি প্যানেলের ভোট প্রার্থনা দেখা যায়। তারা ভোট প্রার্থনার চেয়ে নির্বাচন কমিশন নিয়ে আন্দোলনটাই করেছেন বেশি। ফলে আওয়ামী লীগ প্যানেলের দুই তরুণ আইনজীবী নেতা মোহসীন মিয়া ও মাহবুবুর রহমানের জয়ের সম্ভাবনা শুরু থে‌কেই অনু‌মেয় ছি‌লো। পাশাপ‌শি বিগত সময়ে টানা দুইবার সমিতির নেতৃত্বে থেকে উন্নয়নে ভুমিকা রাখায় মোহসীন ও মাহবুবুর রহমানের প্রতিই সাধারন আইনজীবীদের সুনজর দেখা গে‌ছে।

জানা যায়, মোট ৯২২ জন ভোটারের মধ্যে ৬৩২টি ভোট কাস্ট হয়েছে। যার ৬২২ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাড. মোহসীন মিয়া অন্যদিকে নির্বাচন বর্জন করেও সভাপতি পদে ৫টি ভোট পেয়েছেন অ্যাড. সরকার হুমায়ূন কবির। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্যানেলের অ্যাড. মাহবুবুর রহমান পেয়েছেন ৫৯৪ ভোট। ভোট বর্জন করার পরও ২৩টি ভোট পড়েছে অ্যাড. আবুল কালাম আজাদ জাকিরের নামে।

আওয়ামী লীগের প্যানেল থেকে নির্বাচিত অন্য প্রার্থীরা হলেন- সিনিয়র সহসভাপতি পদে অ্যাড. বিদ্যুৎ কুমার সাহা (৫৯৫ ভোট), সহসভাপতি পদে অ্যাড. তাজুল ইসলাম (৫৯৪ ভোট), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাড. বরুণ চন্দ্র দে (৫৮৪ ভোট), কোষাধ্যক্ষ পদে অ্যাড. মনিরুজ্জামান কাজল (৫৮৫ ভোট), আপ্যায়ন সম্পাদক পদে অ্যাড. আবুল বাসার রুবেল (৫৪৪ ভোট), লাইব্রেরিয়ান পদে অ্যাড. মাহমুদুল হক মমিন (৫৮৭ ভোট), ক্রীড়া সম্পাদক পদে অ্যাড. মোহাম্মদ রাশেদ ভূঁইয়া (৫৮৪ ভোট), সাহিত্য সম্পাদক পদে অ্যাড. ফাহমিদা আক্তার সিমি (৫৯৪ ভোট), সমাজসেবা সম্পাদক পদে অ্যাড. হাছিব উল হাছান রনি (৫৭৩ ভোট) এবং আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে অ্যাড. নুসরাত জাহান তানিয়া (৫৯১ ভোট)। এছাড়া সদস্য পদে রয়েছেন অ্যাড. মো. আসাদুল্লাহ সাগর (৫৪৪ ভোট), অ্যাড. আজিম ভূঁইয়া (৫৫৩ ভোট), অ্যাড. দেলোয়ার হোসেন (সুজন প্রধান) (৫৬২ ভোট), অ্যাড. কামরুল হাসান (৫৪৯ ভোট), অ্যাড. কামরুন নেছা সুবর্না (৫৬২ ভোট)।