বিভাগ - সারাদেশ

নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে এপিপি কালামসহ দুই আইনজীবি শোকজ

প্রকাশিত

হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নারী সংক্রান্ত কেলেঙ্কারির অভিযোগে হবিগঞ্জ জেলা এডভোকেট সমিতির সদস্য এপিপিসহ দুই আইনজীবিকে শোকজ করা হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ জেলা এডভোকেট সমিতির বিশেষ জরুরী সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।শোকজকৃত দুই আইনজীবি হলেন- চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) এডভোকেট আবুল কালাম ও এডভোকেট আবুল খায়ের আজাদ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রুহুল হাসান শরীফ।তিনি বলেন-‘নারী সংক্রান্ত কেলেঙ্কারির অভিযোগে দুই আইনজীবির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বিষয়টি বিভিন্ন পত্রিকায় ফলাও করে সংবাদও প্রচার হয়েছে। তাদের এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে হবিগঞ্জ জেলা এডভোকেট সমিতির ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। এ কারণে সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ি কার্যনির্বাহী কমিটির বিশেষ জরুরী সভায় তাদেরকে সদস্য পদ থেকে শোকজ করা হয়।উল্লেখ্য- গত শুক্রবার দুপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের তৃতীয় তলায় সরকার কর্তৃক বরাদ্দ এপিপির কক্ষে দরজা বন্ধ করা অবস্থায় এক নারীর সাথে পাওয়া যায় এডভোকেট আবুল কালামকে। বিষয়টি জানাজানি হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুল হুদা চৌধুরী ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টি আবুল কালামকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। পরে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ওসি (অপারেশন) দৌস মোহাম্মদ শহরের মোহনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার সন্ধ্যায় উপ পরিদর্শক (এসআই) খুরশেদ আলী বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।এর আগে ৭ জানুয়ারি এডভোকেট আবুল খায়ের আজাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন বৃন্দাবন কলেজের স্নাতক (সম্মান) পড়–য়া এক ছাত্রী। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন- দীর্ঘদিনের প্রেমের সুবাধে ২০১৬ সালের ১৫ নভেম্বর পুরান পৌরসভা রোডের একটি আবাসিক হোটেলে রাত্রি যাপন করেন তারা দুইজনে। ২০১৭ সালের ২০ মার্চ আবারও দুজনে সিলেটের একটি হোটেলে রাত্রিযাপন করেন। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে গেলে আবুল খায়েরকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। এ ঘটনায় কৌশলে এডভোকেট আবুল খায়ের আজাদ ওই ছাত্রীর গর্ভপাত ঘটান। পরে আবারও বিয়ের আশ্বাস দিলেও আবুল খায়ের ওই ছাত্রীকে বিয়ের করেননি। ফলে বাধ্য হয়ে গত ৭ জানুয়ারি ওই ছাত্রী আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।