নিম্ন আয়ের মানুষদের রক্ষার জরুরি পদক্ষেপ নিন : সরকারের প্রতি ন্যাপ

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: করোনাভাইরাসের বিশ্বব্যাপী মহামারীর অর্থনৈতিক আঘাত সাধারণ মানুষের জীবনে এরই মধ্যে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। করোনায় একের পর এক মত্যুর খবর ও আক্রান্তের খবর প্রকাশের পরই আত্মরক্ষার পথ খুঁজে নিচ্ছে মানুষ। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। এরই মধ্যে সরকারও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। ফলে রাজধানীর রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা। অনেক ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি আরও খারাপ। অন্যদিকে নানা গুজবের কারণে, নানা আশঙ্কায় চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপণ্য মজুদ বাড়িয়েছে অনেক পরিবার। বাজারে নিত্যপণ্যসহ সবকিছুরই মূল্য ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থায় ঢাকাসহ সারা দেশের নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষদের অর্থনৈতিক সুরক্ষার প্রশ্নটি গুরুত্ব সহকারে সামনে চলে এসেছে। আয় বন্ধ হওয়া বা কমে যাওয়া অতি সাধারণ দরিদ্র মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার যাতে সমস্যা না হয় সেজন্য জরুরি তহবিল গঠনে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এ আহ্বান জানান। তারা বলেন, করোনার প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। নির্ধারিত বেতনভুক্ত চাকরিজীবী ও মুদি দোকানি ছাড়া অন্যদের আয় কমে যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন অনানুষ্ঠানিক ও সেবা খাতের কর্মীরা। তৈরি পোশাক খাতসহ যেসব শিল্প খাতে করোনা মহামারীর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে সেসব খাতের সুরক্ষার বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিভিন্ন প্রতিবেদনের বলা হচ্ছে, তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকরা এরই মধ্যে ছাঁটাইয়ের ঝুঁকিতে পড়েছেন। এ অবস্থায় সরকারের উচিত হবে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করে তাদের সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া।

নেতৃদ্বয় আরো বলেন, করোনা মহামারীর সময়ে অর্থনীতির যে অবস্থা, তাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য জরুরি তহবিলের ব্যবস্থা করতে হবে। আসন্ন স্বাধীনতা দিবস বা পহেলা বৈশাখের উৎসব ঘিরে যে ধরনের বেচাকেনা হওয়ার কথা ছিল এ বছর তা হবে না। এ সময়ে যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বাজার হারাচ্ছেন এবং একে কেন্দ্র করে যত মানুষের কর্মসংস্থান থেমে আছে, এর প্রভাব কদিন পরই দৃশ্যমান হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান করে, তাদের সঞ্চয় সামান্য, দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতাও কম। কিন্তু ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পই আমাদের শিল্পের ৯৫ ভাগ। তাই তাদের সুরক্ষার কথা ভাবতে হবে। অবশ্যই অতি দরিদ্র মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে জরুরি তহবিল গঠন করা উচিত।

ন্যাপ নেতৃদ্বয় বলেন, আশঙ্কা করা হচ্ছে এবারের সম্ভাব্য বৈশ্বিক মন্দায় বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান ভারসাম্যও পাল্টে যেতে পারে। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, এটা নিশ্চিত যে, এ ধরনের সংকটকালে সব দেশেই সবার আগে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে নিম্ন আয়ের মানুষ ও অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম তো নয়ই, বরং বিপুল জনসংখ্যার এ দেশে এমন জনগোষ্ঠীর ঝুঁকি আরো বেশি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাই সরকারকে এখনই সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষদের সুরক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

একই সাথে নেতৃদ্বয় বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এনজিওগুলোর প্রতি নির্দেশ দেয়া প্রয়োজন যেন তারা এই দুর্যোগের সময় ক্ষুদ্র ঋণের বিনিময় কিস্তি আদায় থেকে বিরত থাকে।