নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে: খন্দকার মোশাররফ

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন প্রহসনের পরিণত হলে এর দায় ‘সরকার ও একচোখা’ নির্বাচন কমিশনের ওপর বর্তাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য দক্ষিণ সিটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, এখনো নির্বাচনের লেভেল প্ল্যায়িং ফিল্ড তৈরী হয়নি। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা-কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। নেতা-কর্মীদের বাসা-বাড়িতে ঢুকে হুমকি, ধামকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হলেও ন্যুনতম কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। আমরা মনে করি, একচোখা নির্বাচন কমিশন প্রশাসনের ন্যাক্কারজনক আচরণ ও ভূমিকা এই নির্বাচন যদি গতানুগতিক ও প্রহসনে পরিণত হয় তাহলে জনগণ তা বরদাশত করবে না এবং উদ্ভুত পরিস্থিতির দায়-দায়িত্ব সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেই গ্রহণ করতে হবে।

গোপীবাগে ইশরাকের বাসায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আফরোজা আব্বাস, আবদুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, কাজী আবুল বাশার, নাদিম মোস্তফা প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি বহিরাগতদের গুন্ডাদের ঢাকায় জড়ো করছে- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এরকম বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে খন্দকার মোশাররফ বলেন, এটা অত্যন্ত হাস্যকর। কে না জানে যে বিএনপির প্রার্থীরা, সাধারণ কর্মীরা তারা বাড়িতে থাকতে পারছে না পুলিশের বিভিন্ন ধরনের কর্মকান্ডের কারণে। আমাদের পক্ষে বাইরে থেকে লোক আনা বা কোনো অস্ত্র-শস্ত্র যোগাড় করা-এটা অসম্ভব বিষয়। এটা আমাদের দ্বারা করা সম্ভবও নয়, এটা আমরা করিও নাই। আমরা জানি যে আওয়ামী লীগ এটা আসলে করছে। তারা বাইরে থেকে নেতা-কর্মীদের এনে ঢাকা শহরে সয়লাব করে ফেলেছে, ৩০ লাখ নেতা-কর্মী ঢাকা শহরে এনেছে এবং অস্ত্র-সস্ত্রসহ এনেছে। এই অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে আসতে তাদের কর্মীরা সাহস পায় কারণ পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে না। এই কাজটি তারা করেছে, এ কাজটি করবে বলেই আগে থেকে বিএনপির ওপরে দোষ চাপানোর জন্য ওবায়দুল কাদের সাহেব এই উদোর পিন্ডি বুঁদোর ঘাড়ে নেয়ার যে তাদের সবসময়ের অভ্যাস সেটা করার জন্য এই কথা উনি বলেছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।

তিনি দাবি করে বলেন, বিএনপি এই ঢাকা শহরের বাইরের থেকে কোনো নেতা-কর্মী আসেনি, আসবেও না। আমাদের প্রয়োজনও নাই। আপনারা জানেন যে এই নির্বাচনের প্রচারণা আপনারা যারা দেখেছেন, জনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। যদি মানুষ নিজের হাতে ভোট দিতে পারে তাহলে শতকরা ৮০ ভাগ ভোট পেয়ে আমাদের ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তরের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হবেন। আমরা কেনো বাইরের থেকে লোকজন আনবো। জনগণই তো আমাদের শক্তি। সকালে যুবদলের ওয়ারি থানার নেতা বুলবুল, নাঈম ও শ্রমিক দলের আনোয়ারকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে অভিযোগ করে তাদের মুক্তির দাবি মোশাররফ।

তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণের আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক আমীর হোসেন আমু সাহেব এক বক্তব্যে বলেছেন যে বৃহস্পতিবার সোহরাওয়ার্দি উদ্যোনে জনসমাবেশ করবেন এবং সেখান থেকে তারা গণমিছিল করে শাপলা চত্বরে এসে নির্বাচনী প্রচারনা অব্যাহত রাখবেন। আমরা বলতে চাই, এটা নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। নির্বাচনী আচরণবিধির ৭ নম্বর ধারায় বলা আছে, গণসমাবেশ ও গণমিছিল করা যাবে না। আমরা এখান থেকে দাবি করতে চাই, নির্বাচন কমিশন তাদের প্রণীত আচরণবিধি মেনে অবিলম্বে আওয়ামী লীগের এই গণসমাবেশ ও মিছিল বন্ধ করবেন। আমাদের দাবি এটা বন্ধ করতে হবে। তাহলেই আমরা বুঝব তারা (নির্বাচন কমিশন) লেভেল প্ল্যায়িং ফিল্ড করার জন্য চেষ্টা করছেন। তারা যদি এটা বন্ধ করতে ব্যর্থ হন তাহলে জনগণের কাছে যেমন এই কমিশন একটি পদলেহী আওয়ামী লীগ সরকারের কমিশন হিসেবে ইতিমধ্যে পরিচিত তা আবার প্রমাণ করবে।

দুপুরে গোপীবাগের আরকে মিশন লেনে মরহুম সাদেক হোসেন খোকার বাসায় এক সংবাদ সম্মেলন হয়। ঢাকা দক্ষিণের ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন, আমরা প্রচারণার প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি। আমরা নানা বাধা-বিপত্তির মুখে পড়েছি তা আপনাদের সব সময়ে তুলে ধরেছি, আপনারাও সব দেখেছেন। আমি বলতে চাই, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সকল ভোটাররা নির্ভয়ে নির্ভিগ্নে ভোট কেন্দ্রে যাবেন। বিএনপি আমরা আমাদের সকল পালন করবো। যাতে করে ভোটাররা সব ভয়ভীতি, হুমকি-ধামকির উপেক্ষা করে ভোট কেন্দ্রে যেয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন এবং তাদের অধিকার করার লক্ষ্যে ধানের শীষের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন। প্রচারণায় গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন ভোটগ্রহণ ও ফলাফল পর্যন্ত গণমাধ্যমকে তার পাশে পাবেন বলে প্রত্যাশার কথাও ব্যক্ত করেন ইশরাক।