নুরকে নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরকে নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ এবং বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ।

আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান এবং বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদের সমন্বয়ক মো. কবীর হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এর একটি বক্তব্য আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। মাননীয় মন্ত্রী তার বক্তব্যে প্রবাসী অধিকার পরিষদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি নুরের উসকানিতে ভিয়েতনামে ২৭ বাংলাদেশি সেখানকার মিশন দখলের চেষ্টা করেছে বলে জানিয়েছেন। অথচ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে এ ঘটনায় বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ কিংবা ভিপি নুরের সংশ্লিষ্ট রয়েছে-এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। বরং সেখানেও মানবপাচারকারী চক্রের সংশ্লিষ্টতায় তারা ভিয়েতনাম গিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই ‘বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ’ ও ‘বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ’ যৌথভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ‘অসত্য ও বিভ্রান্তিকর’ বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, মানবপাচারকারী একটি চক্রের মাধ্যমে ছয় মাস আগে এই ২৭ বাংলাদেশি ভিয়েতনামে যায় বলে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য থেকে জানা যায়। গত ৬ মাসে তাদের কোনো কাজে নিযুক্ত না করে নানাভাবে হয়রানি, নির্যাতন ও নিপীড়নের পর আটক করে রাখা হয় এবং মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। সেখান থেকে তারা কৌশলে পালিয়ে গত ৩ জুলাই দেশে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানিয়ে ভিয়েতনামে বাংলাদেশ মিশনের দ্বারস্থ হন। বাংলাদেশ মিশন ভুক্তভোগীদের সহায়তা না করলে নিরুপায় হয়ে তারা মিশনের বাইরে সড়কে অবস্থান নেয়। পরে ভিয়েতনাম পুলিশের সহায়তায় দুটি হোটেলে ২৭ জনকে দুটি রুমে রাখা হয় বলে আমরা জানতে পারি।

কোনো উসকানি না দিয়ে বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছে-এমন দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়, সমস্যা সমাধানে ভুক্তভোগীরা ‘বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ’ এর সাহায্য চাইলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ’ এর ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তাদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়। যা ছিল একান্তই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভুক্তভোগীদের সাহায্য করার অভিপ্রায় মাত্র। কাউকে উসকানি বা দেশের সম্মানহানি করা নয়।

দাবি করা হয়, ‘বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ’ প্রবাসীদের সব সমস্যা, সম্ভাবনা, সুযোগ, সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে কাজ করার প্রয়াসে গঠিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি প্রবাসীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করছে। কিছুদিন আগে কুয়েত, বাহারাইন ও ওমান ফেরত ২১৯ বাংলাদেশিকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষে ৫৪ ধারায় তাদের আটকেরও নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ।