বিভাগ - খেলাধুলা

পাকিস্তানে ক্রিকেট ফেরাতে বিসিবির খরচ তাহলে কম নয়!

প্রকাশিত

ক্রীড়া প্রতিবেদক: পাকিস্তান বাংলাদেশের জন্য ঠিক পাশের বাড়ি নয়, তবে অতি দূরেও নয়। কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে উড়ালপথে নেই সহজে যাওয়ার কোন উপায়। ঘুরপথে দোহা বা দুবাই হয়ে যেতে হয় সেদেশে। দুই তিন ঘণ্টার জায়গায় লেগে যায় ১০-১২ ঘণ্টা। অতি সংক্ষিপ্ত সফরে খেলতে যেতে অমন ঝক্কি পোহাতে চায়নি বাংলাদেশ দল। তাই মাহমুদউল্লাহদের লাহোর যাত্রায় করা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। তাতে বিসিবির খরচও বেড়ে যাচ্ছে অনেকখানি।

আজ (বুধবার) রাত ৮টায় বাংলাদেশ বিমানের ভাড়া করা বিশেষ একটি বিমানে ঢাকা থেকে সরাসরি লাহোর যাবেন ক্রিকেটাররা। বিসিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ দল লাহোরে পৌঁছাবে রাত সাড়ে দশটায়।

বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের একটি বিমানে করে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, সাপোর্ট স্টাফ নিয়ে লাহোর যাবে উড়োজাহাজটি। অন্য কোন যাত্রী না থাকায় ১৬২ আসনের বিমানের বেশিরভাগ আসনই পড়ে থাকবে ফাঁকা। লাহোরে বাংলাদেশ দলকে নামিয়ে ফাঁকা ফিরতে হবে এই উড়োজাহাজকে। ২৮ তারিখ আবার ফাঁকা উড়ে গিয়ে নিয়ে আসতে হবে দলকে। এতে বিসিবিকে গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।

২৪, ২৫ ও ২৭ জানুয়ারি তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলার পর ২৮ জানুয়ারি একইভাবে ওই ভাড়া করা (চার্টার্ড ফ্লাইট) বিমানে ফিরতে হবে বাংলাদেশ দলকে। জানা গেছে, এক দফার যাওয়া-আসা মিলিয়ে বিসিবির খরচ হবে দেড় লাখ মার্কিন ডলার বা এক কোটি ২৭ লাখ টাকার বেশি।

এতেই সব শেষ হয়ে যাচ্ছে না। নিরাপত্তার শঙ্কায় বিশেষভাবে আয়োজিত এই সফরে বাংলাদেশকে যেতে হবে আরও দুই ধাপে। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে রাওয়ালপিন্ডিতে শুরু হবে দুই দলের প্রথম টেস্ট। টেস্ট দলকে নিয়ে আবার একই রকম ঝক্কির মধ্যে পড়তে হবে বিসিবিকে। প্রথম টেস্ট শেষ হওয়ার পর এপ্রিল মাসে আছে এক ওয়ানডে আর দ্বিতীয় টেস্টের আরেক সফর।

যেকোনো সিরিজে সফরকারী দলকে বিমানভাড়া বহন করতে হওয়ায় তিন দফায় বিশাল অঙ্কের টাকা কেবল এই খাতেই খরচ করতে হচ্ছে বিসিবিকে।

২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কা দলের উপর হামলার পর আন্তর্জাতিক খেলা বন্ধ হয়ে যায় পাকিস্তানে। ২০১৭ সাল থেকে সীমিত পরিসরে ক্রিকেট ফিরতে শুরু করে সেদেশে। তবে বেশিরভাগ দল এখনো সেদেশে সফর করে না। গত বছর শ্রীলঙ্কা দলের সফর করার পর বাংলাদেশের নির্ধারিত পাকিস্তান সফরের জন্য চাপ বাড়াতে থাকে সেদেশের ক্রিকেট বোর্ড। বিসিবি প্রথমে টি-টোয়েন্টি ছাড়া কোন অন্য সংস্করণে খেলতে রাজী না হলেও শেষ পর্যন্ত তিন দফায় পুরো সিরিজই খেলতে রাজী হয়। এমনকি এফটিপির বাইরে একটি ওয়ানডে খেলায় চূড়ান্ত করা হয়।

সফরে রাজী হলেও পূর্ণাঙ্গ রূপে যেতে পারছে না বাংলাদেশ দল। নিরাপত্তা শঙ্কায় পরিবারের সায় না পেয়ে এই সফরে যাচ্ছেন না মুশফিকুর রহিম। প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো গেলেও বেশিরভাগ কোচিং স্টাফও সফর থেকে নিজেদের সরিয়ে রেখেছেন।