পাটকল শ্রমিকদের ‘বিদায়ের সিদ্ধান্ত’ মানবে না জনগণ: হুঁশিয়ারি বিএনপির

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলসমূহে ২৫ হাজার শ্রমিককে ‘গোন্ডেল হ্যান্ডসেকে’ বিদায়ের সরকারি সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিএনপি।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভার্চুয়াল সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এই হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডসেকের মাধ্যমে বিদায় দেয়ার সরকারের সিদ্ধান্ত গণবিরোধী। গণদুশমন ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত কেউ নিতে পারে না। পাটকল শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের এই সিদ্ধান্ত ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’র মতো অবস্থা।’

রিজভী বলেন, ‘আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী সরকারের গণবিরোধী এই সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না। পাটকল শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে আমরা এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলসমূহের দুরবস্থার জন্য সরকারকে দায়ী করে রিজভী বলেন, ‘তাদের (সরকার) ভ্রান্তনীতি ও অব্যবস্থাপনায় দেশের ঐহিত্যবাহী পাটশিল্প আজ ধবংসের দ্বারাপ্রান্তে। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে দুর্নীতি, লুটপাট, ভুলনীতি এবং মাথাভারি ও অদক্ষ প্রশাসন লোকসানের জন্য দায়ী, শ্রমিকরা দায়ী নয়।’

তিনি বলেন, ‘কারণ মৌসুমের জুলাই-আগস্ট মাসে পাটের দাম যখন ১ হাজার টাকা থেকে ১২‘শ টাকা থাকে তখন পাট না কিনে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে যখন পাটের দাম ২ হাজার থেকে ২২‘শ টাকা টাকা হয় তখন পাট কেনা হয়। শুধু তাই নয়, চাহিদার চেয়ে কম পাট কেনা হয়।’

তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রামণের এই দুযোর্গকালে এমনিতেই যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, বিদেশ থেকেও অনেক শ্রমিকজ কাজ হারিয়ে দেশে ফিরছেন, সেই সংকটকালে ক্ষমতাসীন কথিত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী পদক্ষেপ নিয়ে ২৫টি রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

‘বিদেশে পাটের বাজার খোঁজা, পণ্যের বহুমুখীকরণ ইত্যাদি পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় এবং বিজেএমসির কাজ। লোকসানের দায় কোনোভাবে শ্রমিকরা নেবে না’- যোগ করেন তিনি।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা করোনা ভাইরাস সংক্রমণ টেস্টের ভুয়া ফলাফলের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে রিজভী বলেন, ‘পত্রিকায় খবর বেরিয়ে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে বাসা থেকে করোনার স্যাম্পল নিয়ে পিসিআর ল্যাবে টেস্ট না করেই রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। লটারির মতো পজেটিভ বা নেগেটিভ লিখে রিপোর্ট সনদ তৈরি করে পাঠিয়ে দেয়া হয় রোগীর মেইল এডড্রেসে। আবার বুথে করোনা স্যাম্পল দিলে সেখানেও একই অবস্থা। টেস্ট না করিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয় রিপোর্ট।’

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কি ভয়ঙ্কর অবস্থা! মানুষের জীবন নিয়ে চরম তামাশা করছে সরকারের লোকজন। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, করোনা নিয়ে ছলচাতুরি বন্ধ করুন, মানুষের জীবন নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলবেন না।’