পানির মূল্য বৃদ্ধির ঢাকা ওয়াসার প্রস্তাব অযৌক্তিক : বাংলাদেশ ন্যাপ

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: আবাসিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে প্রায় শতভাগ পানির মূল্য বৃদ্ধির ঢাকা ওয়াসার প্রস্তাবকে অযৌক্তিক ও জনবিরোধী হিসাবে আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা ওয়াসার এই প্রস্তাব বাতিলের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছে।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এ দাবী জানান। নেতৃদ্বয় বলেন, নগরবাসীকে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি দিতে পরিপূর্ণ ব্যর্থ ঢাকা ওয়াসা পানির মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব সম্পূর্ণ অনৈতিক ও জনবিরোধী। জনগনের চাহিদা মোতাবেক বিশুদ্ধ পানি প্রদানে ব্যর্থ ঢাকা ওয়াসা ২০১৮ সালে সেপ্টেম্বর মাসেই আবাসিক ও বাণিজ্যিক সংযোগে পানির মুল্য বৃদ্ধি করেছিল।

তারা বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ওয়াসার সরবরাহ করা পানি পান করা যায় না। অন্যদিকে বহুস্থানে পানির পাম্পের সীমানার ভেতরেই একটি সংস্থার বিশুদ্ধ পানি বিক্রি হয়। কার্ড বানিয়ে আলাদা দামে সেই পানি কিনতে হয়। ওয়াসার পানির বিলের বাইরেই গ্রাহকদের এই টাকা গুনতে হয়। অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাট মালিকরা ওয়াসার সরবরাহ করা পানির উপর নির্ভর করতে পারে না। বিশেষ করে পান করার ক্ষেত্রেতো নয়ই। এই ক্ষেত্রে প্রায় পরিবারকে আলাদাভাবে পানি ক্রয় করে পান করতে হয়। তবে ওয়াসার পানি ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসেই বিল ঠিকই দিতে হয়। এবার বিলের অঙ্ক হকে দ্বিগুণ। যা অন্যায় ও অনৈতিক। ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ পাওয়া গেলেও বকেয়া বিল আদায়ের জন্য ওয়াসা এলাকায় মাইকিং করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ভয় দেখায় গ্রাহককে।

মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব বাতিল করে নগরে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের দাবি জানিয়ে নেতৃদ্বয় বলেন, রাজধানীতে ওয়াসার পানির বিল এক টাকাও বৃদ্ধি করা যাবে না। পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ ও সেবার মান না বাড়িয়ে ইচ্ছে মত পানির মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবনা দিয়েছে ওয়াসা, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

তারা আরো বলেন, সরকারি দলের টেন্ডারবাজদের কারণে ওয়াসার কাজ বিলম্বিত কাজের ব্যয় পাঁচ থেকে দশ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়, যা জনগণের পকেট থেকে কেটে নেয়ার জন্যই অযৌক্তিকভাবে পানির মূল্যবৃদ্ধি পাঁয়তারা করা হচ্ছে। কোনো আইননীতি ও জনগণের মতামতের তোয়াক্কা না করে পানির মূল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে, কিন্তু সেবার মান পড়ে আছে একেবারে নিম্ন পর্যায়ে। বছর না পেরুতেই আবারও পানির মূল্যবৃদ্ধির যে পাঁয়তারা করছে- তা মেনে নেয়া হবে না।

error0