বিভাগ - সারাদেশ

পুরাতন খোয়াই নদী অবৈধ দখল মুক্ত না করলে জবাবদিহী করতে হবে

প্রকাশিত

মঈনুল হাসান রতন হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জে পুরাতন খোয়াই নদীর প্রায় দুইশ’ কোটি টাকার ‘ঝিলমিল’ প্রকল্পের বিষয়ে নদী রক্ষা কমিশনকে অবহিত না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। পাশাপাশি শতভাগ পরিকল্পনা ছাড়াই প্রকল্প হাতে নেয়ায় বাস্তবায়ন নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।তিনি বলেন- ‘খোয়াই নদীর প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের সবচেয়ে সুন্দর শহরের রূপান্তরিত হবে হবিগঞ্জ। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে প্রায় দুইশ’ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রস্তাবনায় পাঠানো হয়েছে। অথচ নদী রক্ষা কমিশনকে একটুও অবহিত করা হয়নি। অন্তত একটি কপি হলেও আমাদের কাছে পাঠাতে পারতেন। এছাড়া এত বড় একটি প্রকল্পের প্রস্তাবনা পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত সঠিক কোন পরিকল্পনাই তৈরী হয়নি।’ শুক্রবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘পুরাতন খোয়াই নদীর চলমান উদ্ধার অভিযান ও বর্তমান অবস্থা শীর্ষক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।তিনি বলেন- ‘জেলা প্রশাসন নাকি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নদীর অংশ বন্দোবস্ত দিয়েছে। যেখানে নদী রক্ষা আইন অনুযায়ি স্বয়ং রাষ্ট্রপতিও নদীর জায়গা কাউকে বন্দোবস্ত দেয়ার নিয়ম নেই। সেখানে জেলা প্রশাসন কিভাবে নদীর জায়গা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বন্দোবস্ত দিয়েছে তার জবাবদিহিতা করতে হবে।মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন- ‘আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। সুতরাং মুক্তিযোদ্ধাদের আমি সম্মান করি। অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য জেলা-উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরকারিভাবে জায়গা দেয়া হচ্ছে। সুতরাং নদীর জায়গা তাদেরকেও ছাড়তে হবে।তিনি আশ্বস্থ করে বলেন- ‘ ‘সারাদেশের নদ-নদী রক্ষায় জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। খোয়াই নদীর উদ্ধার অভিযান অব্যহত থাকবে। নদী রক্ষা কমিশনের কর্মকর্তারা এই অভিযান বাস্তবায়ন করবেন। চলমান উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে শত বছর আগের নদীগুলো কোথায় ছিল তা বের করে ফেলব। স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশনের বিজ্ঞানীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কোথায় কোথায় নদী ছিল তা বের করে ফেলবেন।অনেকে লাল ক্রাস চিহ্ন মুছে দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন- ‘লাল ক্রস চিহ্ন মুছে দিয়ে কেউ পার পাবে না। আমাদের মন ও তালিকা থেকেতো আর মুছে ফেলতে পারবে না। তালিকা ধরে ধরে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।’ কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘এরইমধ্যে আমরা সারাদেশের ৪৯ হাজার ১৬২ জন অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রকাশ করেছি। আগামী এক বছরের মধ্যে এসব অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো জেলা প্রশাসন উচ্ছেদে ব্যর্থ হন তাহলে তাকে জবাবদিহিতা করতে হবে।’ মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘নদী রক্ষা কমিশনকে আরও শক্তিশালী করতে হাইকোর্টকে আহ্বান জানানো হয়েছে। যদি আমাদেরকে আরও শক্তিশালী করা হয় তাহলে আমরা ডিসিদের জন্য অপেক্ষা করব না। নিজেরাই সারাদেশে উচ্ছেদ অভিযানে নামব।তিনি বলেন, ‘অনেক চতুর প্রভাবশালী রয়েছে, যারা প্রথমে নদীর পাড়ে হত দরিদ্রদের আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থা করে থাকেন। পরে সময়-সুযোগ বুঝে বিভিন্নভাবে তারা ওই জায়গাটি দখল করে নেন। সুতরাং সে বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। দরিদ্র ভূমিহীনদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তাহলে কেন তারা নদী দখল করে বসবাস করবেন। তাদের সঠিক তালিকা সংগ্রহ করে অন্যত্র পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি।নাগরিক সংলাপে আরও উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অমিতাব পরাগ তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈলেন চাকমা, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এমএম সৌকত।বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেলের পরিচালনায় সংলাপে নদী রক্ষায় নিজেদের পরামর্শ তুলে ধরেন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যম কর্মী ও শিক্ষার্থীরা।এর আগে শুক্রবার বিকেলে তিনি খোয়াই নদীর বিভিন্ন অংশ পায়ে হেঁটে পরিদর্শন করেন। এ সময় বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।