পূজার দিন নির্বাচন, সরকারের একদম গাফেলতি এবং ব্যর্থতা: কামাল হোসেন

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরস্বতী পূজার দিন ঢাকা সিটির নির্বাচন দেয়া সরকারের অন্যায় কাজ বলে মন্তব্য গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, সরস্বতী পূজার দিন নির্বাচন দিয়ে সরকার একটা অন্যায় কাজ করেছে। ঈদের দিনে যদি নির্বাচন হয়, পূজার দিন যদি হয়। এটা সরকারের একদম গাফেলতি এবং ব্যর্থতা।

কন্যাকে ধর্ষণের জন্য তুলে দেয়া অভাব-অসহায়ত্বের প্রকৃষ্ট উদাহরণ বলে মন্তব্য করেছেন ড. কামাল হোসেন। বৃহস্পতিবার মতিঝিলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জরুরি বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ি ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে দুটি করে মোট চারটি পথসভা করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সভায় ফ্রন্টের শরিক নেতারা উপিস্থিত থেকে বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাইবেন।

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে পাওনা টাকা মওকুফের বিনিময়ে মেয়েকে (১৩) ধর্ষণে সহযোগিতা করার অভিযোগে অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, আবুল নামে এক ব্যবসায়ীকে দিয়ে নিজের মেয়েকে ধর্ষণে সহায়তা করতেন তিনি। তাকে প্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশের অর্থনীতি এমন ভয়ঙ্কর অবস্থায় গেছে যে, একজন পিতা হাজার টাকা ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে নিজ কন্যাকে ধর্ষণের জন্য তুলে দিয়েছেন পাওনাদারের হাতে। সরকার যখন উন্নয়ন ধরতে চাচ্ছে তখন মানুষের অভাব এবং অসহায়ত্ব কোন পর্যায়ে গেছে এ ঘটনা তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

তিনি বলেন, অর্থনীতির খুব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ শেয়ারবাজারকে নানা কারসাজির মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। এতে লাখ লাখ ক্ষুন্দ্র বিনিয়োগকারীকে পথে বসিয়ে সরকারের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যবসায়ি হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে। সর্বস্ব হারিয়ে এখন পর্যন্ত দুজন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন।

নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র কল্পনাই করা যায় না এমন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, তাই সরকারের সাংবিধানিক কর্তব্য হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। অতীতে আমরা লক্ষ্য করেছি, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়নি। গত জাতীয় নির্বাচনে এসব পাইকারি হারে লঙ্ঘন হয়েছে।

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুটি করে মোট চারটি পথসভা করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে সরকারদলীয় প্রার্থী মন্ত্রী-এমপিদের নির্বাচন আচরণবিধি ভঙ্গ করা এবং ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থীদের নির্বাচনী গণসংযোগে বাধা ও হামলা প্রমাণ করে নির্বাচনের কোনো সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

ড. কামাল হোসেন বলেন, এ দেশের জনগণ নির্বাচনের পক্ষে। কারণ এর মাধ্যমে জনগণ রাস্তার মালিকানা নিশ্চিত করতে পারে। তবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া মালিকানা নিশ্চিত হবে না।

ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিকল্পধারার সভাপতি অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, গণফোরাম নেতা অধ্যাপক আবু সাইয়িদ চৌধুরী, সুব্রত চৌধুরী, জেএসডি কার্যকরী সভাপতি সা কা ম আনিছুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানোয়ার হোসেন, জগলুল হায়দার আফ্রিক, শহীদ উল্লা কায়সার, ডা. জাহেদ উর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু প্রমুখ।

error0