বিভাগ - জাতীয়

পেঁয়াজ বিক্রি করে অবৈধ সম্পদ অর্জন করলে ব্যবস্থা: দুদক চেয়ারম্যান

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করার বিষয়টি দুদকের এখতিয়ারভুক্ত নয়। এ বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দা কাজ করছে। তাদের কাছ থেকে যদি কোনো তথ্য পাওয়া যায়, যাতে বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে অবৈধ সম্পদের মালিক কেউ হয়ে থাকেন, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (০৮ ডিসেম্বর) দুদক মিলনায়তনে রিপোর্টার্স অ্যাগেইনেস্ট করাপশন (র‌্যাক) আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস উপলক্ষে এ মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে সূচণা বক্তব্য রাখেন র‌্যাকের সভাপতি মোর্শেদ নোমান, সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আদিত্য আরাফাত।

সরকারের দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল মাহমুদ বলেন, অনেকেই বলছেন এ অভিযান বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু দুদক কাজ করছে। এরইমধ্যে ১৮৭ জনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। দুদক যাদের নিয়ে কাজ শুরু করেছে, আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া তাদের বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং অভিযুক্তদের আনন্দে থাকার কোনো সুযোগ নেই। দুর্নীতি যেই করুন না কেন, তাকে দুদকের বারান্দায় আসতে হবে।

বেসিক ব্যাংকের তদন্ত কবে শেষ হবে প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের কাছে চার্জশিট এসেছিলো। কিন্তু সেখানে টাকা কোথায় পাচার হয়েছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য না থাকায় আমরা এগোতে পারিনি। তবে তদন্ত চলছে। মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে যোগাযোগ করা হচ্ছে, টাকা কোথায় গিয়েছে সে বিষয়ে।

বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চুর নাম কেন চার্জশিটে ছিলো না- প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, তিনি অপরাধ করেছেন কি করেননি, সে বিষয়ে আমরা এখনই কিছু বলতে পারছি না। তদন্ত চলছে। যদি চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তার নাম আসে, তাহলে আপনাদের এ ধরনের প্রশ্ন আর করার প্রয়োজন হবে না।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘এবছর দুদকের কার্যক্রম ঊর্ধ্বমুখী। তদন্ত, অনুসন্ধান সবই বাড়ছে। আমাদের ওপর জনআস্থা বেড়েছে। ফাঁদ মামলাও হয়েছে অনেক। ফাঁদ মামলার কারণে সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষের প্রবণতা কমেছে।’দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘অর্থপাচারের ঘটনা ঠেকাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান মামলা না করলে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে দুদক। মানি লন্ডারিং মামলায় সাজাও শতভাগ।’

তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছি। গণশুনানির সংখ্যা বেড়েছে। মামলায় সাজার হারও বেড়েছে। কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছি। সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিতেও কাজ করা হচ্ছে।’ দায়মুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, কোনও মানুষ যেন হয়রানি না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শিশুদের নৈতিকতা বাড়াতে ২৭ হাজার সততা সংঘ ও ৪ হাজার সততা স্টোর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মানসিক পরিবর্তন না হলে দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব না। সবার সমন্বিত প্রয়াস ছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব না।