বিভাগ - সারাদেশ

প্রেম করে বিয়ে অতঃপর নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে আয়েশা

প্রকাশিত

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ঃ প্রেমের বিয়ের পর স্ত্রী আয়েশাকে ১০মাস গৃহবন্দি করে নির্মমভাবে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে মানসিক প্রতিবন্ধী করে পিত্রালয়ে পাঠিয়েছে নরপশু স্বামী, শশুর, শাশুড়ি। গৃহবধূ এখন পাইকগাছা উপজেলা হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে এবং পাগলের ন্যায় প্রলাপ বকছে। ঘটনাটি উপজেলার চরমলই গ্রামে।

অভিযোগে জানা যায়, পাইকগাছা পৌরসভার সরল গ্রামে ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলাউদ্দীন মিস্ত্রীর কন্যা আয়েশা। আলাউদ্দীন মিস্ত্রী জানান, গত ২৫ জানুয়ারি’১৯ উপজেলার চরমলই গ্রামের সবুর মোল্লার (আল-মদিনা ডেকোরেটর) ছেলে আব্দুল্লাহ-আল-মামুন আয়েশাকে প্রেম করে বিয়ে করে। বিয়ের পর মামুনের পিতা মাতা মেনে নিতে পারেনি। অতঃপর স্থানীয় শালিশী করে মামুনের পিতা মাতা আয়েশা কে গৃহবধূ হিসেবে মেনে বাড়িতে নেয়। বাড়িতে নেয়ার পর আয়েশা কে গৃহবন্দি করে রেখে ঠিকমত খেতে পরতে দিত না। গালিগালাজ ও মারপিট সহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন করতো। ফলে আয়েশা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে ও অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে আয়েশা। আয়েশার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার স্বামী, শশুর, শাশুড়ি আয়েশার গর্ভের সন্তান নষ্ট করে। গত ২৫ নভেম্বর গৃহবধূ আয়েশা কে তার স্বামী, শশুর, শাশুড়ি শারীরিক, মানসিক নির্যাতন করে তার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ীর লোকজন কৌশল করে আহত অবস্থায় আয়েশা কে গদাইপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাছে নেয়। চেয়ারম্যান বিষয়টি আচ করতে পেরে আয়েশাকে তার পিত্রালয়ে পাঠায়। বাড়িতে থাকা তার মা মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়েকে স্বামীর অনুপস্থিতিতে গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। উপায়ান্তর না পেয়ে গদাইপুর ইউনিয়নের দুই গ্রামপুলিশ আয়েশাকে থানায় নিয়ে যায়। আয়েশার থানায় অবস্থান বিষয়টি জানতে পেরে তার ফুফা ব্যবসায়ী সাত্তার থানা থেকে আয়েশাকে জিম্মায় নিয়ে পাইকগাছা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে ও চিকিৎসাধীন আছে। কর্তব্যরত ডাক্তার জানান, আয়েশার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে। চোখে ঝাপসা দেখছে। কাউকে চিনতে পারছে না। কিছু জিজ্ঞাসা করলে পাগলের ন্যায় প্রলাপ বকছে। আয়েশার পিতা আলাউদ্দীন মিস্ত্রী তার কন্যার নির্যাতনকারীদের বিচার দাবী করেছেন।