ফেব্রুয়ারিতেই ৫০৪টি দুর্ঘটনায় নিহত ৬২২, আহত ১২৩৮

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ ডেস্ক: চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ৫০৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩৪ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ওই মাসে প্রায় এক হাজার একশ ৬৯ জন আহত হয়েছেন। একই সময় রেলপথে ৫৬ দুর্ঘটনায় ৪৮ জন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছেন। নৌ-পথে নয়টি দুর্ঘটনায় ৪০ জন নিহত ও ৫৬ জন আহত এবং ৬৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। অর্থাৎ সড়ক, রেল ও নৌ পথে দুর্ঘটনায় মোট ৬২২ জন নিহত ও ১,২৩৮ জন আহত হন।

বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। দেশের সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে তৈরি এ প্রতিবেদনের কথা সোমবার (০২ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায় সংগঠনটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে ২১২ জন পথচারী, ১৩৪ চালক, ৭৩ পরিবহন শ্রমিক, ২৬০ শিক্ষার্থী, ১৩ শিক্ষক, ২ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৮৮ নারী, ৭৬ শিশু, ১ সাংবাদিক, ১ প্রকৌশলী, ২ মুক্তিযোদ্ধা এবং ১৬ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়।

এর মধ্যে নিহত হন ৯৯ জন চালক, ১৮৭ পথচারী, ৬২ নারী, ৭১ ছাত্র-ছাত্রী, ৪৫ পরিবহন শ্রমিক, ৫৪ শিশু, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ১৩ নেতাকর্মী, ২ বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১১ শিক্ষক, ১ জন প্রকৌশলী ছিলেন।

মোট সংগঠিত দুর্ঘটনায় ১৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ বাস, ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ প্রাইভেটকার-জীপ-মাইক্রোবাস, ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ২০ দশমিক ৯৫ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক, ১২ দশমিক ৩৩ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

মোট দুর্ঘটনার ৫৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা, ১৮ দশমিক ০৫ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ খাদে পড়ে, ৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ বিবিধ কারণে, শূন্য দশমিক ৫৯ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং ১ দশমিক ৩৮ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জানুয়ারি মাসের তুলনায় ফেব্রুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ আহতের হার বাড়লেও সড়কে দুর্ঘটনার ৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ ও নিহত ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমেছে।

পরিসংখ্যানের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসের তুলনায় ফেব্রুয়ারি মাসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনা ১ দশমিক ৪ শতাংশ, পথচারীকে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা ১ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং বেপরোয়া গতির কারণে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা শূন্য দশমিক দুই শতাংশ কম সংঘটিত হয়েছে।

এ মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয় ১৬ ফেব্রুয়ারি, ওইদিনে ২৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ৪০ জন আহত হন। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয় ২৭ ফেব্রুয়ারি, ওইদিনে ছয়টি সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত ও পাঁচজন আহত হন।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ মতে সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলো- বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালনা, বিপদজনক ওভারটেকিং, রাস্তা-ঘাটের ক্রটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, চালকের অদক্ষতা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল বা হেডফোন ব্যবহার, মাদকসেবন করে যানবাহন চালানো, রেলক্রসিং ও মহাসড়কে হঠাৎ ফিডার রোড থেকে যানবাহন উঠে আসা, রাস্তায় ফুটপাত না থাকা বা ফুটপাত বেদখলে থাকা, ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগ ও ছোট যানবাহন বৃদ্ধি।