বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ বার্ষিকীতে ঢাকাবাসীকে নৌকায় ভোট দেয়ার আহবান: আতিকুল

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়াামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেছেন, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সব সেবা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে আলোকিত ঢাকা বিনির্মাণে পুরো ঢাকা সিটি কমান্ড সেন্টারের অধীনে চলে আসবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারীবান্ধব শহর গড়তে সিসি ক্যামেরার টোটাল নেটওয়াার্ক ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কমান্ড সেন্টারের মাধ্যমে চলে আসবে।

আতিকুল ইসলাম আজ দুপুরে রাজধানীর কল্যাণপুরে নির্বাচনী প্রচারনা ও গণসংযোগ শুরু করার সময় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “আলোকিত ঢাকা নির্মাণে ৪২ হাজার লাইট ঢাকা শহরে লাগানো হবে। এই লাইট লাগানোর জন্য কন্ট্রোল প্যানেলও কমান্ড সেন্টারের মাধ্যমে চলে আসবে। এক্ষেত্রে যদি শক্ত নেটওয়ার্কিং গঠন করতে পারি তাহলে আমরা অ্যাপসের মাধ্যমে সবই জানতে পারবো ।”

আতিকুল ইসলাম বলেন, “আওয়ামী লীগ ও নৌকার ব্যাকগ্রাউন্ড লাগে না, নৌকার ব্যাকগ্রাউন্ড হল নৌকার গিয়ার, নৌকার গিয়ার হল একটা, আর সেটা হচ্ছে উন্নয়নের গিয়ার- নৌকার জোয়ার।” নগরবাসী ও ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নৌকায় যদি আপনারা ভোট দেন, তাহলে অবশ্যই নৌকা দেবে ঢাকা নগরীর উন্নয়ন, নৌকা দেবে নগরবাসীর শান্তি, নৌকা দেবে শৃঙ্খলা।

ইতোমধ্যে ৯ মাস দায়িত্ব পালন করেছেন উল্লেখ করে আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ঢাকা নগরীকে ডিজিটাল সিটি বিনির্মাণের জন্য অনেক কিছু করেছি। সত্যিকার অর্থে ৯ মাস অল্প সময়ের মধ্যে কাজের ভিজিবিলিটি হয় না এবং এটি আমার পরিকল্পনার মধ্যে ছিল কমান্ড সেন্টার। ইতোমধ্যে কমান্ড সেন্টার তৈরি করেছি।’

তিনি আরও বলেন, এখন থেকে কমান্ড সেন্টারের মাধ্যমে ঢাকার কোথায় ময়লা পড়ে আছে- পরিচ্ছন্নকর্মীরা কোথা থেকে ময়লা নেয়নি, কমান্ড সেন্টারের মাধ্যমে সেই খবর চলে আসবে। দুর্নীতিমুক্ত সিটি করপোরেশন গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী বলেন, এখন থেকে আপনারা অনলাইনের মাধ্যমে সবাই বাড়ির ট্যাক্স দেবেন, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে আর যেতে হবে না। এ ধরনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। অসাধু কর্মকর্তাদের দিন শেষ, এগুলো আর চলবে না। চলতে দেয়া হবে না।

নির্বাচনে জয়লাভ করলে তিনিসহ কাউন্সিলরা জবাবদিহিতা করার আওতার মধ্যে থাকবে উল্লেখ করে আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এবিষয়ে আমি প্রতিমাসে ওয়ার্ড ভিত্তিক জনগণের কাছে জবাবদিহিতার মুখোমুখি হবো। আপনাদের সাথে নিয়ে মিটিং করবো। কোন অভিযোগ থাকলে আপনারা তখন আমাকে সরাসরি জানাবেন।

নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে ক্ষমতাসীন দলের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশন দেরিতে হলেও সরস্বতী পূজার বিষয়টিকে আমলে নিয়ে নির্বাচন ৩০ জানুয়ারি পরিবর্তে একদিন পিছিয়ে দিয়েছে। পহেলা ফেব্রুয়ারি ঢাকা সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ বার্ষিকীতে ঢাকাবাসীকে ভোট দেয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, “নৌকায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন। আসুন, আমরা সবাই মিলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধ কণ্যা শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করি।’

আতিকুল ইসলাম আজ দুপুর থেকে শুরু করে রাজধানীর কল্যাণপুর ও তার আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী ব্যাপক প্রচারণা ও গণসংযোগ করেন। গনসংযোগ ও প্রচারণাকালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এ মান্নান কচি, আওয়ামী-যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী, যুবলীগ, বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ,ও যুবলীগ, ছাত্রলীগ, জাতীয় শ্রকিলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ এবং তার সহযোগী অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ।

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মেয়র ও কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দুই সিটির প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে ইভিএমের মাধ্যমে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একচানা ভোটগ্রহণ চলবে।