বিভাগ - কৃষি

বন্যার পানিতে আখ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কয় কৃষক

প্রকাশিত

ইসমাইল খন্দকার,সিরাজদিখান(মুন্সীগঞ্জ) থেকে: চলতি মৌসুমে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলা জুড়ে আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে গেল কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও বন্যার পানিতে আখের ছত্রাক ও কান্ডপচার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন উপজেলার আখ চাষীরা। টানা বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে আখ ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এতে গাছের গোড়া পচে আখ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে । ফলে এমন অবস্থায় চাষ করা আখ নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছে কৃষককুল। তবে পানি কমেগেলে আখ মিষ্টি ও ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে।

জানা যায়, আখ গাছগুলো পানি বাড়ার কারণে ডুবে যাওয়া এবং গাছগুলোর গোঁড়া থেকে মাটি সরে গিয়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে ময়লা ও দূষিত পানির কারণে ছত্রাক, কান্ডপচার মত রোগ হচ্ছে। এর ফলে গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে । গাছগুলো কিছুদিনের মধ্যে মরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে এই অঞ্চলে আখ চাষ করে আসছেন কৃষকরা। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছরে আখের ভালো ফলন দেখছিলেন কৃষকরা। তবে শেষ সময়ে এসে অতিবৃষ্টি ও বন্যার পানিতে আখের জমি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ সময় আখ নষ্ট বা পচে গেলে সারা বছরের কষ্ট বৃথায় চলে যাবে কৃষকদের।

উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে,আবিরপাড়া, দক্ষিণ তাজপুর, রশুনিয়া, ইছাপুরা,হিরনের খিলগাঁও, মধ্যপাড়া, রাজানগর, শেখরনগর, মালখানগর বয়রাগাদী, কোলার গ্রামগুলোতে আখ চাষ বেশি করেছে। প্রথম দিকে গোঁড়ায় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি থাকায় আখ পুষ্ট ও মিষ্টি হচ্ছিলো। তবে সেখানে অতি বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে চাষিদের ক্ষতির আসংঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় কাজলা পাশত, সাতাশ ও অমিতাভ এ তিন ধরনের আখ চাষ করা হয়। তবে সাতাশ আখটি খুব মিষ্টিও হয়। আর অমিতাভ জাতের আখের রস মেশিনে জুস বানিয়ে বিক্রি হয়। আগে পোকার কারণে লোকসান হলেও, সাম্প্রতি বছর গুলোতে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে আখ চাষ করে সাফল্য পাচ্ছেন এখানকার কৃষকরা। গত বছর ২৪৫ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হলেও এবছর ৪৫০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ করেছে।

তাজপুর গ্রামের কৃষক রনি শেখ জানান, এবছর করোনা ভাইরাসের কারণে কাজকাম নেই। তাই এ বছর আখ চাষ করেছি। মধ্যে অতিবৃষ্টি ও বন্যার পানির কারণে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। জমিতে পানি যদি বেশীদিন স্থায়ী হয় তাহলে আখ পচে জাবে। যদি আখ বিক্রি করতে না পারি আমার অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। এবার আমি ৪২ শতাংশ আখের আবাদ করেছি। এখন পর্যন্ত আখ ভালো আছে ।

সিরাজদিখান বাজার আখ বিক্রেতা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন,প্রতি পিছ আখ ৯ টাকা দরে কিনে এনেছি জমি থেকে, বিক্রি করছি ১০ টাকা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ্র রায় বলেন, উপজেলায় দিন দিন আখ আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর আখ চাষ বেড়েছে। অতি বৃষ্টি ও বন্যার দূষিত পানিতে আখ গাছগুলোর মধ্যে ফাঙ্গাস জন্ম নিয়েছে। এবং পানির কারনে গাছগুলোর গোঁড়া থেকে মাটি সরে গেছে। অপরদিকে ছত্রাক, কান্ডপচার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে ।