বসন্তের কোকিলদের হাতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেওয়া যাবে না: কাদের

প্রকাশিত

রংপুর প্রতিনিধি: দলীয় নেতাকর্মীদের ক্ষমতার দাপট না দেখানোর আহবান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ মানে ধংস স্তুপে দাঁড়িয়ে সৃষ্টির স্লোগান। দুঃসময়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার নাম আওয়ামী লীগ। মনে রাখবেন ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। ক্ষমতার দাপট কেউ দেখাবেন না। বিনয়ী থাকবেন। নেত্রী বলেছেন সাধারণ জীবন যাপন করতে হবে। অনেক স্বপ্ন দেখতে হবে। অনেক স্বপ্ন দেখাতেও হবে।

আত্মীয়স্বজন দিয়ে কমিটি গঠন না করার জন্য দলীয় নেতাদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, শিক্ষিত, স্বচ্ছ ইমেজের লোক দরকার। গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন কাদের। নগরের পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে এ সম্মেলন হয়। রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০০৬ সালে। আর মহানগরের সম্মেলন হয়েছিল ২০০৯ সালে। আজ ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন।

অনুষ্ঠানে দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে প্রধান অতিথি ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মনে রাখবেন, ক্ষমতা চিরদিন থাকে না। ক্ষমতার দাপট কেউই দেখাবেন না। বিনয়ী হতে হবে। জনগণের মন জয় করতে হবে।’

ওবায়দুল কাদের দলে অনুপ্রবেশকারী প্রসঙ্গে বলেন, ‘বসন্তের কোকিলদের দলে টানবেন না। আমি বসন্তের কোকিল চাই না। বসন্তের কোকিলদের “না” বলুন। দুর্নীতিবাজদের “না” বলুন। টেন্ডারবাজদের “না” বলুন। মাদককে “না” বলুন।’আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সেশনজট হয়ে গেছে। এখন স্বচ্ছ ও ক্লিনদের দলে স্থান দিতে হবে। এমন কাজ করবেন না যেন আওয়ামী লীগের বদনাম হয়।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, দুঃসময়ের আওযামী লীগ নেতাদের মূল্যায়ন না করে বসন্তের কোকিলদের হাতে নেতৃত্ব দেওয়া যাবে না। মাদকসেবী, দুর্নীতিবাজ, টেন্ডারবাজ চাঁদাবাজদের নেতৃত্বকে না বলুন। ত্যাগী কর্মীদের কোনঠাসা করে আত্মীয়দের নেতা বানাবেন না। বিশুদ্ধ রক্ত দিয়ে দল পরিচালনা করুন। দলের নেতৃত্ব তাদের হাতে তুলে দিন। দুষিত সব রক্তদের পরিহার করুন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, এক সময় রংপুরের মানুষ মঙ্গাকবলিত ছিল। প্রধানমন্ত্রী সেই মঙ্গাকে যাদুঘরে পাঠিয়েছেন। রংপুরকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যাপক উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। বগুড়া থেকে চারলেনের কাজ শুরু হয়েছে। রংপুর থেকে বুড়িমারি বাংলাবান্দা সড়ক করা হবে। গোটা উত্তরাঞ্চলের সমস্ত মহাসড়ক চারলেনের আওতায় আনা হবে। রংপুর জেলার ৯৪ ভাগ মানুষ বিদ্যুত সুবিধার আওতায় এসেছে। দ্রুত শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা হবে।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বিশ্বের প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে এক নম্বরে রয়েছেন শেখ হাসিনা। বিশ্বের মহিলা নেতাদের তালিকাও শীর্ষে রয়েছেন তিনি। তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়বে। সেই যাত্রায় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

এর আগে বেলা ১১টায় সম্মেলন উদ্বোধন করবেন সভাপতি মন্ডলীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন। জেলা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদের সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ এইচএন আশিকুর রহমান এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেলন, অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক টিপু মুনশি, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আখতার, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা সেক্রেটারী রেজাউল করিম রাজু ও মহানগর সভাপতি সাফিউর রহমান সফি। সম্মেলন উপস্থাপনা করেন মহানগর সেক্রেটারি তুষার কান্তি মন্ডল।