বস্ত্রে ব্যবসা বাড়ানো ও দরকষাকষিতে উদ্যোগ নিন: ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: নতুন দেশগুলোর চাহিদা মাথায় রেখে পোশাক তৈরি করা উচিত বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাহলে নতুন বাজার ধরা সহজ হবে। তাছাড়া, ব্যবসার প্রসার বাড়ানো ও দরকষাকষির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদেরও উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বস্ত্র দিবস ২০১৯ উদযাপন ও বহুমুখী বস্ত্র মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর আজ থেকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে তিনদিনের বহুমুখী বস্ত্র মেলা শুরু হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ খুব অল্প টাকায় বায়ারদের কাছে পোশাক (পার পিচ) বিক্রি করে। বায়াররা প্রত্যেকটা পণ্যে এক ডলার করেও যদি দাম বাড়াত, তাহলে বোধহয় বস্ত্র খাতটাকে আরও উন্নত করতে পারতাম। আমাদের যারা পণ্য রফতানি করে তারা এই বার্গিনিংটা করেন কি না, সেটা বলতে পারব না। আমি যখন যে দেশে যাই সেখানে তুলে ধরি কিন্তু আমি একা তুলে ধরলে হবে না। আপনারা যারা ব্যবসা করেন তাদেরও বোধহয় একটু উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটা যেন এগিয়ে যায় সেজন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। এরইমধ্যে প্রায় ১৬টি বন্ধ টেক্সটাইল মিল পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপে (পিপিপি) চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। দুটি বন্ধ মিল পিপিপি’র আওতায় চালু করতে দুটি দেশের (দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত) সাথে জিটুজির পদ্ধতিতে পরিচালনার জন্য কাজ করেছি। তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এটা হলে পরে মিলগুলো চালু করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ এখন বিশ্ব পোশাক বাজারে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একই জিনিসের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। রফতানি পোশাকের ক্ষেত্রে তার ডিজাইন, রং বা সবকিছুই কিন্তু সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হয়। আমি জানি যে, যারা কিনতে আসে (বায়ার) তাদের চাহিদার উপরেই নির্ভর করে। তারপরও আমাদের নিজস্ব একটা উদ্যোগ থাকা উচিত। সেটা হল নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করা। কোন বাজারে ঢুকতে পারি। কোন দেশে কোন পণ্যের চাহিদা বেশি। কোন ধরনের পোশাক বা ডিজাইনের চাহিদা বেশি। সবকিছুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আমাদের উৎপাদনকে বহুমুখীকরণ করা প্রয়োজন বলে মনে করি।

সংশ্লিষ্টদের কিছু স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। বলেন, আমি আশা করি আপনারা এই ধরনের পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং গ্রহণ করবেন। সরকারের পক্ষ থেকে এই ক্ষেত্রে সব ধরনের সহযোগিতা করবো। কারণ যেকোনো পণ্য বাজারজাত করতে গেলে পণ্যের বৈচিত্র্য একান্তভাবে দরকার।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে আমরা আগাচ্ছি। এসব অঞ্চলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত, আমরা যা উৎপাদন করি সেখানে কি কি কাঁচামাল ব্যবহার করে পণ্য উপাদন করতে পারি এবং সেসব পণ্য কিভাবে বাজারজাত করতে পারি সেদিকে নজর দিতে হবে।

পাশাপাশি কৃষিখাতকেও গুরুত্ব দিয়ে উন্নত করার জন্য কৃষি যান্ত্রিকীকরণ করার নীতিমালা এরইমধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমেই কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং সেগুলি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশকে সার্বিকভাবে উন্নয়ন করাই আমাদের লক্ষ্য। আজকে দারিদ্র্যের হার যা একসময় ৫১ ভাগ ছিল আমরা সেটাকে ২০ দশমিক ৫ ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু আমরা আরও কমাতে চাই। বাংলাদেশ হবে একটি সম্পূর্ণ দারিদ্র্যমুক্ত দেশ। উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ এবং আমরা তা করতে পারব। এই বিশ্বাস আমার আছে। সেই ক্ষেত্রে আমাদের শিল্পায়ন, আমাদের শিল্প বাণিজ্যের উন্নয়নসহ সর্বক্ষেত্রেই উন্নতি করতে হবে।

সেদিকে লক্ষ্য রেখেই সকলে কাজ করবেন, এটাই আমি আশা করি। জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। ২০২০ সাল জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করবো। আগামীকাল কাউন্টডাউন শুরু হবে। ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্ম। আমরা এই দিনটা থেকে মুজিব বর্ষ উদযাপন শুরু করবো। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবো।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন সুন্দর একটা সমাজ পায়, উন্নত দেশ পায়। সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে। সেই লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সুবিধা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সময়ের প্রয়োজনে এগুলো পরিবর্তন ও সংশোধন করতে হয়। কিন্তু একটা যদি রূপরেখা থাকে, তাহলে যেকোনো সময় এটাকে ভিত্তি করে আমাদের পরিকল্পনা নিয়ে যারাই পরবর্তীতে আসবেন, তারা দেশকে যেন এই উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত রাখতে পারে। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা এটা করে যাচ্ছি।

আমাদের দেশের মানুষ অত্যন্ত মেধাবী, তাদের শ্রম, মেধা ও মননের শক্তি দিয়ে এই দেশকে আগামী দিনে এগিয়ে নিয়ে যাবে এমন আশা জানান প্রধানমন্ত্রী।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর (বীরপ্রতীক) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মির্জা আজম এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া।

error0