বিভাগ - সারাদেশ

বহুবিধ অপকর্মের মূল হোতা ফলিক আবারো শ্রীঘরে

প্রকাশিত

সিলেট প্রতিনিধি: বহুবিধ অপরাধ-অপকর্মের মূল হোতা বহুরূপী ফলিক আবারো শ্রীঘরে। সাজাপ্রাপ্ত আসামী হিসেবে চতুর্থবারের মত তাকে রোববার (২৪ নভেম্বর) সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে শনিবার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সিলেটে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ বাজার খেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় সাজাপরোয়ানা-সহ তিনটি ওয়ারেন্ট ছিল তার বিরুদ্ধে। এই তিন মামলায় গ্রেফতার করে তাকে জেরে প্রেরণ করা হয়। সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জের লামাচন্দরপুর গ্রামের মৃত আলতাফ আলীর পুক্র ফলিক উদ্দিন খান। চাঁদাবাজী, দ্রুতবিচার, নাশকতা ও জালিাতিসহ হাফডজন মামলা এজাহারভুক্ত আসামী সে।

একাধিক মামলায় এর আগে ৩ বার কারাভোগও করেছে। মাদকের ও নারীর প্রতি তার বেশ সখ্যতা। তাই অনেকের কাছে রমণীমোহন হিসাবে অতি পরিচিত। সিলেটের বিভিন্ন এলাকা থেকে যুবতী মেয়েদের আমেরিকায় নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সর্বনাশ করাই তার মূল টার্গেট। তার জৈবিক লালষা থেকে রেহাই পান নি এক শিক্ষানবীশ আইনজীবিও। পর্যন্ত কত মেয়ের সর্বনাশ করেছে তার কোন ইয়াত্তা নেই।

সিলেট নগরীর নাইওরপুলস্থ সিলভিউ হোটেলের রেজিষ্টারে রয়েছে তার অনেক অপকর্মের প্রমান। সে নিজের অপকর্ম ঢাকতে স্থানীয় থানা পুলিশের নামেও করেছে একাধিক মিথ্যা মামলা যা তদন্তকালে বার বার মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। গত বছরের শেষ দিকে তাকে একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ উল্লেখ করে গোলাপগঞ্জ থানার ১২৬/২০১৮ নং মামলাটি তদন্ত করে আদালতে রির্পোট জমা দিয়েছেন পিবিআই এর এক পুলিশ কর্মকর্তা। ১৯৯৯ সালে দায়ের করা গোলাপগঞ্জ থানার অস্ত্র মামলায় প্রথম কারাভোগ করে। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়ের করা একটি দ্রুত বিচার আইনের মামলায় ৩ মাস কারাভোগ করে। গতবছর গোলাপগঞ্জ থানার সিআর মামলা নং ১২৬/২০১৮ নং চাঁদাবাজীর মামলায় প্রায় ১ মাস কারাভোগ করে।

এছাড়া তিনি ২০১৮ সালের ছাত্র আন্দোলনের উসকানীদাতা, গাড়ি ভাংচুর মামলা নং ১৩৩/২০১৮ ইং মামলার একজন তালিকাভুক্ত আসামী ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ থাকে গ্রেফতার করে। অপর দিকে জামায়াত বিএনপির সাথে গোপন সম্পর্ক রেখে নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগের ১৩২/২০১৮ নং মামলার তালিকাভুক্ত একজন আসামী সে। এছাড়া গোলাপগঞ্জ থানার মামলা নং-১৯(৬)২০১৬ইং, একই থানার দ্রুতবিচার মামলা নং-১৫ (৬)২০১৬ ইং, মামলা নং-১৬(৪)২০১৬,মামলা নং-১৯(৬)২০১৬, দ্রুত বিচার আইনে মামলা নং ১০/১৩৩ (৮)২০১৮, উপজেলা নির্বাহী অফিসারে দায়ের করা মামলানং-১২/২০১৬, মামলায় (নং-দায়রা ১০১/২০১৯) এর এজাহারভুক্ত আসামী সে।

এতো অপরাধের সাথে জড়িত আর এসব মামলার আসামী হয়েও উঠেছেন সমাজসেবী। সম্প্রতি কয়েক বছর থেকে বাংলাদেশে এসে হয়ে যায় প্রবাসী কমিনিটি নেতা। তবে আমেরিকা থেকে একাধিক বিশ্বস্থ্য সূত্র জানিয়েছে ফলিক খান বিয়ে করে বিএনপির প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মরহুম সাদেক হোসেন খোকার ভাগ্নিকে। সেখানে টাকার জন্য স্ত্রী উপর নির্যাতন করে হাত ভেঙ্গে দিয়ে দেশে পালিয়ে আসে।

এছাড়া সেখানে পুলিশ ফলিক খানকে একাধিক অপরাধের জন্য হন্য হয়ে খোঁজ করছে। যার জন্য ফলিক খান আর আমেরিকা যেতে পারছেনা। গোলাপগঞ্জ প্রশাসনের তালিকায় সে একজন দুরন্তর ও কুখ্যাত চাঁদাবাজ হিসাবে পরিচিত। ফলিক সরকার বিরোধী ও চাঁদাবাজীর মামলায় প্রায় ১ মাস কারাভোগর পর জামিনে ছাড়া পেয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে।

স্যোসাল মিডিয়া ফেইসবুকে বিভিন্ন নামে ফেইক আইডি খুলে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডের বিরোদ্ধে বিষোদগার, উসকানীমূলক পোষ্ট, সমাজের সম্মানীত ব্যক্তিদের নামের আজেবাজে মন্তব্য করে এলাকায় বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাশাপাশি জনমানুষের মান-মর্যাদা নিয়ে খেলা করতে ফলিকের জুড়ি নেই। মামলার ফটোজালিয়াতিতেও সিদ্ধ হস্ত ফলিক। দেশের বিভিন্ন থানার এফআইআর ফটোকপি করে অন্যের নামঠিকানা বসিয়ে তদবীর ও চাঁদাবাজিতেও তার জুড়ি নেই। এবছরের এপ্রিলে রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার একটি মামলার এফআইআর-এর ফটোকপি জাল করে সিলেটের দুইজন সাংবাদিকের নাম জড়িয়ে ডিচিটাল রিনরাপত্তা আইনের মামরা বলে তার ফেইসবুক আইডিকে প্রকাশ করে। অনুসন্ধ্যানে তা ভ’য়া প্রমানিত হওয়ায় পরে তা ডিলিট করে দেয়। কিন্তু এর আগেই ভোক্তভোগিরা তার পোস্টের স্ক্রীণশর্ট নিয়ে নেন। সুত্র জানায় এলাকার সহজ নরল মানুষের নামে মামলার ফটোজালিয়াতি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় ফলিক।

ফলিকের বড়ভাই ফরিজ উদ্দিন খানও আমেরিকা প্রবাসী। শহরতলী শাহপরাণ এলাকায় রয়েছে ভাই ফরিজ উদ্দিন খানের নামে বেশকিছু ভ’মি। প্রতারক ও জালিয়াত ফলিক খান তার এনআইডি জার করে ফলিক উদ্দিন খানের স্থলে নিজের নাম ফরিজ উদ্দিন খান বলে বড়ভাইয়ের ১০ শতক জায়গা বিক্রি করে ফেলে। খবর পেয়ে ফরিজ উদ্দিন খান দেশে এসে তার বিরুদ্ধে মািমলা করেন। এ মামলায়ও তার বিরুদ্দে ওয়ারেন্ট হয়।

আলোচিত ফলিকখানের একাধিক অসামাজিক কর্মকান্ডসহ অনৈতীক কর্মকান্ডে ঘটনায় স্যোসাল মিডিয়ায় বেশ আলোচিত হয়েছে সে। তার অত্যাচার থেকে পরিত্রান পেতে গোলাপগঞ্জ থানায় একাধিক মামলাসহ সাধারণ ডায়েরী, সিলেট কোতয়ালী থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরী করেছেন বেশ কয়েকজন নারী ও পুরুষ।

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আর স্থানীয় প্রশাসনসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের নামে নানা রকম বাজে মন্তব্য আর উসকানী দিলেও সে নিজেকে আওয়ামী নেতা দাবী করে। তবে স্থানীয় ওয়ার্ড থেকে শুরু করে প্রবাস পর্যন্ত সে আওয়ামী লীগের বা এর কোন অঙ্গসঙ্গঠনের সদস্য নয়। তাহলে সে কি করে নিজেকে আওয়ামীলীগের নেতা দাবী করে এমন প্রশ্ন অনেকের। অনেক সময় নিজেকে শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যদের সাথে নাকি রয়েছে তার গভীর সম্পর্ক এমনটাও প্রচার করে থাকে সে।

ফলিক উদ্দিন একজন আমেরিকা প্রবাসী হলেও আমেরিকাস্থ আওয়ামী লীগের কোন সংগঠনের সদস্য পদও নেই তার। সম্প্রতি সময়ে সিলেট জেলাবার আইনজীবি সমিতির এক শিক্ষানবীশ নারী আইনজীবিকে বিয়ে করে আমেরিকা নেয়ার প্রতারনার ফাদে ফেলে তার সাথে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তুলে ফলিক খান। শিক্ষানবীশ ওই নারী আইনজীবির সাথে কয়েকটি আপত্তিকর ছবি তুলে ফেইসবুকসহ অনলাইন মাধ্যেমে ছেঢ়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছিল সে। এমনকি অনেকের ব্যক্তিগত ম্যাসেঞ্জারে তিনি ছবিগুলো দিয়েছেন। যার ফলে পেশাগত কাজে বাঁধা ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন তিনি। ফলিক খানকে ছবি প্রদানের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে উল্টো শিক্ষানবীশ আইনজীবীকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে গুম ও খুন করার হুমকি দেন এবং নুসরাতের মতো তাকে পুড়িয়ে হত্যা করার হুমকি দেন এই ফলিক খান ।শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ঐ আইনজীবি গত ২৯ এপ্রিল ফলিক খানের বিরুদ্ধে সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (নং-৪৯১৬) করেন।

অতি সম্প্রতি গোলাপগঞ্জ আওয়ামী লীগের সম্মেলন পন্ড এবং জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের অসম্মানী করার মূলে হাত ছিল ফলিক খানের। তার গুন্ডা ও সন্ত্রাসী বাহিনীর তান্ডবে সম্মেলন ও কাউন্সিল না করেই ফিরতে হয়েছে কেন্দ্রীয় ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে। অবশেষে ফলিককে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোয় গোলাপগঞ্জের জনমনে স্বস্তি ফিরে আসে।