বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী মেলেনি, তবে ঝুঁকি রয়েছে: আইইডিসিআর

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এমন রোগী বাংলাদেশে এখনও পাওয়া না গেলেও, ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, নতুন ভাইরাসটি নিয়ে এখনই ভীত হওয়ার কিছু নেই। তবে ঝুঁকি রয়েছে ঠিকই। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) নতুন করোনা ভাইরাস সর্ম্পকে অবহিতকরণ সভা ও সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, তবে দেশে এখন ‘কমন কোল্ড’ এর সময়, আর যদি ‘কো মরবিডিটি’ থাকে তাহলে যেকোনও ভাইরাসে, যেকোনও ব্যাকটেরিয়াতে আক্রান্ত হলে সেটা জটিলতার দিকে যেতে পারে। ‘মার্স’ এবং ‘সার্স’ পরিবারের এই নতুন করোনা ভাইরাস সর্ম্পকে এখনও পুরোপুরি সবকিছু জানা যায়নি বলেও জানান তিনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নতুন এই ভাইরাসের নাম দিয়েছে ২০১৯-এনসিওভি।

তিনি বলেন, ভাইরাসটি এখনও ‘স্টেবল’ অবস্থায় আছে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে ‘মৃদু’ বলে আখ্যায়িত করেছে। তবে ভাইরাসের সক্ষমতা দ্রুত হয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে মনিটর করছে, যে এর থেকে মারাত্মক পরিস্থিতি হতে পারে কিনা। এমনকি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বুধবারের জরুরি বৈঠকে ভাইরাসের কারণে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি মহামারী ঘোষণা করা হবে কিনা সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসেনি। বৈঠকটি আজ আবার হওয়ার কথা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও সদ্য বিদায়ী রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা বলেন, নতুন এই করোনা ভাইরাসের লক্ষণ হলো জ্বর, কফ, শ্বাসকষ্ট। এর থেকে নিউমোনিয়া, তারপর কিডনি ফেইলিউর হওয়ার ঘটনা ঘটছে।

তিনি আরও বলেন, গত পরশু ( ২১ জানুয়ারি) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বৈঠক করেছি, সেখানে চীন এবং আক্রান্ত দেশগুলো থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদেরকে একটি কার্ড দেওয়া হচ্ছে এবং নতুন এই করোনা ভাইরাসের লক্ষণ থাকলে তাদেরকে ১৪ দিনের মধ্যে আইইডিসিআরের হটলাইন নম্বরে (০১৯৩৭ ১১০০১১, ০১৯৩৭ ০০০০১১, ০১৯২৭ ৭১১৭৮৪, ০১৯২৭ ৭১১৭৮৫) যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে। আর কেউ যদি আক্রান্ত হয়ে যান তাহলে তাদের পর্যবেক্ষণের জন্য কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত রিএজেন্ট রয়েছে।

পরীক্ষার কতদিনের মধ্যে ফলাফল জানা যাবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই ফলাফল জানা যাবে। বিমানবন্দরসহ দেশের সব স্থলবন্দরগুলোকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং সেখান থেকে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিয়মিত আপডেট দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

সম্প্রতি চীনের উহান শহরের একটি সি-ফুড মার্কেট থেকে নতুন করোনা ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেটি জাপান, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রেও ছড়িয়েছে। ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত সেখানে ৫০০ জন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে।