বিভাগ - সারাদেশ

বাগেরহাটে নমুনা’র রিপোর্ট না পেয়ে ফেসবুকে ছাত্রলীগ নেতার আবেগঘন স্ট্যাটাস

প্রকাশিত

হেদায়েত হোসাইন, বাগেরহাট: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি গোবিন্দ মজুমদার। তিনি বেশ কয়েকদিন ধরে হালকা কাশি ও গলা ব্যাথা থাকায় গত ২৯ জুন নমুনা দিলেও এখন পর্যন্ত তার রিপোর্ট আসেনি। ফলে দুঃচিন্তায় ঘরে বসে দিন কাটচ্ছেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে সোমবার (৬ জুলাই) তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে ‘রিপোর্ট চাই’ শিরোনামে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন।

‘রিপোর্ট চাই’ শিরোনামে স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন ‘মহান জাতীয় সংসদে জনৈক এমপি ভুলবশত বলেছিলেন, মাননীয় ব্রিজ আমার নির্বাচনী এলাকায় একটি স্পিকার চাই। কিছুক্ষণ পরে তিনি তার ভুলটি বুঝতে পেরে নিজেকে সংশোধিত করেছিলেন। সেদিন তার চাওয়া পূর্ণ হয়েছিল। আজ আমার চাওয়া পূর্ণ হোক। চিতলমারী থেকে খুলনায় যেতে সময় লাগে মাত্র দুই ঘন্টা। অথচ ১৬৮ আজ ঘন্টা পার হয়ে গেল তবু খুলনা থেকে রিপোর্ট পৌঁছাতে পারেনি। মনে হচ্ছ রিপোর্টের পায়ে কেউ ঘুঙ্গুর বেঁধেছে। সে জন্য তার আসতে দেরি হচ্ছে। জানিনা আমার শরীরে কোভিড-১৯ পজেটিভ না নেগেটিভ। এমন একটি মানষিক চাপ ফেচ করছি যা কাউকে বোঝানোর ভাষা নেই! কেবল নমুনা দিয়ে রিপোর্ট হাতে না-পাওয়া মানুষ গুলো বুঝতে পারবেন।

এটা সত্যি চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ যথেষ্ট আন্তরিকতা দেখাচ্ছে। কারো অসুস্থের খবর শুনলেই পুরো টিম নিয়ে ছুটে যাচ্ছে। চিকিৎসা ও পরামর্শে তাদের একটুও কমতি নেই। তাদের প্রতি আমার কোন অভিযোগ নেই। অভিযোগ আছে ওই ঘুঙুর ওয়ালার প্রতি। গত ২৯ জুন সকাল ৯ টা ১৫ মিনিটে করোনা সন্দেহে আমার নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছিল চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। আজও সেই নমুনার রিপোর্ট আসেনি।’ ছাত্রলীগ নেতার ওই আবেগঘন স্ট্যাটাস ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ছাত্রলীগ নেতা গোবিন্দ মজুমদার গোবিন্দ মজুমদার মুঠোফোনে জানান, দেশের সব মানুষ উদ্বেগ-উৎকন্ঠার মধ্য দিনাতিপাত করছেন। এই পরিস্থিতিতে কারো সিজনাল জ্বর, সর্দি, কাশি বা গলা ব্যাথা হলে তার বা তার পরিবারের দুঃচিন্তার অন্ত থাকে না। অনেকে ভয়ে নমুনা পরীক্ষা করতেই চায় না। এ কারনেও সংক্রামণের হার প্রতিনিয়ত বেড়ে চলছে। আবার যারা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রে রিপোর্ট আসতে ৫/১০ দিন সময় লাগছে। দেরীর কারণে এদের অনেকেই কোয়ারেন্টাইন মানছেন না। আবার যারা মানছেন তারা নিজেও পরিবারের লোকজন দুঃচিন্তার মধ্য দিন কাটাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মামুন হাসান জানান, আগে চিতলমারী উপজেলাসহ বাগেরহাট জেলার সংগ্রহকৃত নমুনা গুলো খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে টেষ্ট হতো। কিন্তু বর্তমানে বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার নমুনা গুলো যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা হচ্ছে। বেশী নমুনার চাপ থাকায় রিপোর্ট ৮/১০ দিন দেরীতে আসছে। এতে কিছুটা বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।