বাণিজ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চাওয়ার বিষয়টি ‘কথার কথা’: কাদের

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পর বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির পদত্যাগ চাওয়ার বিষয়টি ‘কথার কথা’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।বুধবার (৪ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

দুইশ টাকার ওপরে পেঁয়াজের কেজি যাওয়ার পরও লাগাম টানতে না পারায় বিভিন্ন মহল থেকে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির পদত্যাগের দাবি উঠেছে। তার পদত্যাগেও যদি পেঁয়াজের দাম কমে তাহলে এক সেকেন্ডও সময় নেবেন না বলে মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন টিপু মুনশি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন তার পদত্যাগের ফলে পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক হলে তিনি এক সেকেন্ডও সময় দিতেন না- এ ধরনের বক্তব্য একজন মন্ত্রী হিসেবে দিলে সেটি কতটা প্রভাব পড়তে পারে- এক সাংবাদিকের প্রশ্নে দলের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, দেখুন এটা কথার কথা।

‘যদি গ্যারান্টি থাকতো যে আমি পদত্যাগ করলেই পেঁয়াজের দাম কমে যাবে, সেটা তো কথার কথা। সেটা তো আর পদত্যাগ করার বিষয় নয়। আর মন্ত্রী হিসেবে হয়তো কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, যেহেতু পেঁয়াজের দাম বাড়তি। কেউ কেউ তো মন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করে। সেজন্য বলছেন যে পদত্যাগ করলেই যদি সমাধান হয়ে যেতো তাহলে তো আমি এক সেকেন্ডেই পদত্যাগ করতাম।হাসতে হাসতে ওবায়দুল কাদের বলেন, সেটা উনি অযৌক্তিক কিছু বলেননি, এটা কথায় কথাই বলতেই পারেন।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য প্রার্থী খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের। সরকার যথাসময়ে ও ভালভাবে এই নির্বাচন চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ওবায়দুল কাদের জানান, নির্বাচন কমিশন থেকে তার কাছে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের সময়ের বিষয়ে প্রস্তাব চাওয়া হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন আমরা ভালোভাবে করতে চাই এবং আমরা বিজয়ী হতে চাই। সিটি নির্বাচন যথাসময়ে হবে বলেই ঢাকা দুই মহানগরের সম্মেলন করা হয়েছে। সিটির সংগঠনকে আরো বেশি শক্তিশালী ও স্মার্ট করে গড়ে তুলতে সিটি আওয়ামী লীগের সম্মেলন করা হয়েছে বলে জানান কাদের। বলেন, ঢাকা মহানগরীর দুই সিটিকে আমরা ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব উপহার দিয়েছি, এটা আমরা করেছি আগামী সিটি নির্বাচনে জিততে।

আওয়ামী লীগের দুই সিটি নির্বাচনে প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন আসছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের মনোনয়ন বোর্ড রয়েছে, তারা এটা নিয়ে ভাববেন। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মনোনয়ন বোর্ড বসে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে এখন আমরা প্রার্থী খুঁজছি এবং চিন্তাভাবনা করছি।

যুবলীগের মত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিবর্তন হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ঢাকার দুই সিটিতে সম্পূর্ণ নতুন মুখ এসেছে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে নতুন মুখ আসবে, আওয়ামী লীগের সম্মেলন মানেই নতুন পুরাতন মিলিয়ে কমিটি হবে।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে নতুন মুখ আসছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি আপনাদের বারবার এক কথাই বলেছি, এটি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। আমাদের সভাপতি যেটা ভালো মনে করবেন সেটাই হবে। কারণ উনি আমাদের কাউন্সিলরদের মাইন্ড সেটাপ ভালো করেই জানেন। আমাদের কাউন্সিলররাও সবসময় নেত্রীর ওপর আস্থা রাখেন। নেত্রী যেটা সিদ্ধান্ত নেবেন সেই সিদ্ধান্তে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই, এতে আমি সাধারণ সম্পাদক থাকি আর না থাকি সেটা প্রশ্ন নয়।