বাড়ি থেকে কাজ করতে প্রয়োজন যেসব ভিডিও মিটিং অ্যাপস

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ ডেস্ক: করোনাভাইরাস মহামারির কারণে অনেক দেশেই চলছে লকডাউন। ফলে চার দেওয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ সাধারণ মানুষের চলাচল। তবে এই লকডাউনে অফলাইন হোক বা অনলাইন, কাজ অব্যাহত রাখতে হবে। তাই অনেকেই এখন বাড়ি থেকে কাজ করছেন। এমন অবস্থায় অফিস কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জরুরি কোনো সভায়, সদস্যরা শারীরিকভাবে যোগ দিতে না পারলেও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চালিয়ে নিচ্ছেন তাদের কার্যক্রম। খুব সহজেই সেই সভায় অংশ নিতে পারছেন সদস্যরা।

আসুন জেনে যাক এমন কিছু অ্যাপস ও সফটওয়্যার সম্পর্কে, যার মাধ্যমে সহজেই বাড়ি থেকে কাজ করা সম্ভব।

জুম মিটিং

একই সময়ে একাধিক অংশগ্রহণকারীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগাযোগ করা সম্ভব, তাও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। এই অ্যাপের বেসিক প্ল্যানের মাধ্যমে আপনি সর্বোচ্চ ১০০ জন অংশগ্রহণকারীসহ একটি ভিডিও মিটিং হোস্ট করার অনুমতি পাবেন। এর মাধ্যমে আপনি পূর্বনির্ধারিত কোনো মিটিংয়ে অংশগ্রহণকারী সদস্যদের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন। অংশগ্রহণকারীরা বিনামূল্যে মোবাইল ফোন, ট্যাব বা ডেস্কটপের মাধ্যমে জুম মিটিংয়ে যোগদান করতে পারবেন। আমন্ত্রিত অংশগ্রহণকারী জুম অ্যাকাউন্ট না থাকলেও মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করা যাবে। আর প্রতিটি ভিডিও মিটিং চলবে ৪০ মিনিট পর্যন্ত।

আর কী আছে এই অ্যাপে?

জুম অ্যাপের মাধ্যমে একে অন্যের সঙ্গে ভিডিও মিটিং করার পাশাপাশি বিনামূল্যে ব্যবহারকারীরা তাদের স্ক্রিন শেয়ারিং এবং ভিডিও মিটিং রেকর্ড করার সুযোগ পাবেন। এছাড়াও দারুণ সব ফিচার থাকায় প্লে স্টোরে জুমের জনপ্রিয়তা এখন আকাশ ছোঁয়া। তবে, আপনি যদি ভিডিও কনফারেন্স চলাকালীন সময়ের সীমাবদ্ধতা না চান, তাহলে জুমের প্রো প্ল্যান বেছে নিতে পারেন। এতে আপনার মাসিক খরচ পড়বে ১৪.৯৯ ডলার বা ১ হাজার ২৭৩ টাকা (ডলার প্রতি ৮৫ টাকা হিসাবে)। এ প্ল্যানের অধীনে ১০০ জন অংশগ্রহণকারীর সঙ্গে ২৪ ঘণ্টাই ভিডিও মিটিং করা যাবে। এছাড়া এ প্ল্যানের আওতায় মিটিংগুলো রেকর্ড করার জন্য ১ জিবি ক্লাউড স্টোরেজও পাবেন আপনি।

ছোট এবং মাঝারি আকারের ব্যবসায়িক সংস্থাগুলোর সুবিধার্থে জুম একটি ব্যবসায়িক প্ল্যানও রেখেছে। এর জন্য এক হোস্টের ব্যয় করতে হবে প্রতিমাসে ১৯.৯৯ ডলার বা ১ হাজার ৬৭৮ টাকা। এ প্ল্যানের আওতায় আপনি একবারে ৩০০ অংশগ্রহণকারীর সঙ্গে জুম মিটিং হোস্ট করতে পারবেন। এর বাইরে আরও বড় পরিসরের মিটিংয়ের জন্য আপনি ‘এন্টারপ্রাইজ’ বা ‘এন্টারপ্রাইজ প্লাস’ নামের প্ল্যানও বেছে নিতে পারেন।

গুগল হ্যাংআউটস মিট

উদ্ভাবনী পরিষেবায় গুগল এগিয়ে, এটা সবার জানা। গুগলের ক্লাউড ভিত্তিক অফিস বা ব্যবসা পরিষেবা ‘গুগল জি স্যুট’ বান্ডেলের অধীনে আপনি ‘গুগল হ্যাংআউটস’ ফিচারগুলো পাবেন। গুগল হ্যাংআউটসে সর্বোচ্চ ১০ জন অংশগ্রহণকারী যতক্ষণ প্রয়োজন ততক্ষণ ভিডিও চ্যাট এবং ভিডিও কল করতে পারবেন। একটি জিমেইল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই বিনামূল্যের গুগল জি স্যুট হ্যাংআউটসটি ব্যবহার করা যায়।

সুরক্ষিত ডেটা ট্রান্সমিশন এবং উচ্চমানের ভিডিও ফুটেজসহ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এটি আপনাকে বেশ সহায়তা করতে পারে। স্মার্টফোনের অ্যাপ কিংবা যেকোনো ওয়েব ব্রাউজার (ল্যাপটপ/ডেস্কটপের জন্য) ব্যবহার করে গুগল হ্যাংআউটস মিট ব্যবহার করা যায়।

জি স্যুট বেসিক প্ল্যানের জন্য একজন ব্যবহারকারীকে প্রতি মাসে ৬ ডলার বা ৫১০ টাকা খরচ করতে হবে। এ প্ল্যানের একটি সেশনে সর্বোচ্চ ২৫ জনের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের অনুমতি পাওয়া যায়। আর জি স্যুট বিজনেস প্ল্যানের জন্য একজন ব্যবহারকারীকে প্রতি মাসে ১২ ডলার বা ১ হাজার ২০ টাকা খরচ হবে। এ প্ল্যানের আওতায় আপনি একসঙ্গে ৫০ জনের সঙ্গে ভিডিও মিটিং করতে পারবেন।

অন্যদিকে, জি স্যুট এন্টারপ্রাইজ প্ল্যানের জন্য একজন ব্যবহারকারীকে প্রতি মাসে ২৫ ডলার বা ২ হাজার ১২৪ টাকা খরচ হবে। এ প্ল্যানের আওতায় ১০০ জনের সঙ্গে ভিডিও মিটিং করা যাবে। গুগল ড্রাইভের ক্লাউড স্টোরেজ প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করে আপনি মিটিংগুলো রেকর্ড এবং সংরক্ষণ করতে পারেন। প্ল্যানের আওতায় প্রতি ব্যবহারকারী ৩০ জিবি স্টোরেজ ব্যবহার করতে পারবেন।

তবে, ‘জি স্যুট বিজনেস’ এবং ‘জি স্যুট এন্টারপ্রাইজ’ অ্যাকাউন্টের আওতাধীন গ্রাহকরা সীমাহীন স্টোরেজ সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া ‘জি স্যুট এন্টারপ্রাইজ’ প্ল্যানে সাবস্ক্রাইব করে আপনি লিংকগুলো শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার ভিডিও মিটিংটি প্রায় ১ লাখ দর্শকের কাছে সম্প্রচার ও লাইভ স্ট্রিম করতে পারেন।

স্কাইপ

বিনামূল্যের অফুরন্ত সময় ধরে ভিডিও কনফারেন্স করার সুযোগ দিচ্ছে স্কাইপ। বাসা থেকে অফিস করছেন এমন ছোট দলের জন্য এ অ্যাপটি হতে পারে সহায়ক। স্কাইপ ব্যবহার করে একসঙ্গে ৫০ জন ভিডিও মিটিং করা যেতে পারে। এছাড়া এ অ্যাপের আপগ্রেডেড ফিচারগুলো পাওয়ার জন্য আপনি সাবস্ক্রাইব করতে পারেন ‘স্কাইপ ফর বিজনেস’ পরিষেবায়।

একটি সক্রিয় ওয়াইফাই সংযোগের মাধ্যমে আপনি স্কাইপের (৫.০ বা আপগ্রেড সংস্করণ) ভিডিও কনফারেন্সের ব্যবস্থা করতে পারেন। আর ভিডিও কনফারেন্স কলিং ফিচার পেতে আপনার স্কাইপ অ্যাকাউন্টটি নিবন্ধন করার সময় গ্রুপ ভিডিও কলিং সাবস্ক্রিপশন অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অংশগ্রহণকারী সবাইকে নিজ নিজ মোবাইল বা ডেস্কটপে সাইন আপ এবং স্কাইপ অ্যাপস বা সফ্টওয়্যার ডাউনলোড করতে হবে।

ফ্রিকনফারেন্স

আপনি যদি আপনার সতীর্থদের সঙ্গে অডিও কনফারেন্স হোস্ট করতে চান সে ক্ষেত্রে ফ্রিকনফারেন্স.কম ওয়েবসাইটটি ভিজিট করতে পারেন। এই সময়ে বিনামূল্যে অনলাইন মিটিংয়ের এটি হতে পারে অন্যতম মাধ্যম। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এই পরিষেবাটি ব্যবহার করা যাবে। ‘ফ্রি’ প্ল্যানের মাধ্যমে ১০০ জন অংশগ্রহণকারী টেলিফোন কলে অংশ নিতে পারবেন। আর এই প্লানে বিনামূল্যে ভিডিও মিটিংয়ের জন্য ৫ জন অংশগ্রহণকারীকে অনুমতি দেওয়া আছে। পাশাপাশি আপনি অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে ক্রিন শেয়ার এবং একটি অনলাইন হোয়াইটবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন।

এছাড়া, প্রতি মাসে ৯.৯৯ ডলার বা ৮৪৯ টাকায় আপনি ভিডিও কনফারেন্সিং অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা ১৫ জন পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য ‘স্টার্টার’ প্ল্যানে নিবন্ধন করতে পারেন। এ প্ল্যানের মাধ্যমে আপনি মিটিংয়ের অডিও সংরক্ষণ করতে পারবেন। আর ৫০ জন অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে ভিডিও মিটিং হোস্ট করতে হলে আপনাকে বেছে নিতে হবে ‘প্লাস’ প্ল্যানটি। এর জন্য প্রতি মাসে ২৪.৯৯ ডলার বা ২ হাজার ১২৩ টাকা ব্যয় করতে হবে আপনাকে। এ প্ল্যানের মাধ্যমে আপনি মিটিংগুলোর অডিও এবং ভিডিও উভয়ই সংরক্ষণ করতে পারবেন।