বাড়ি ভাড়া মওকুফ ও ই-রেশনিং চালুর দাবি বাংলাদেশ ন্যাপ’র

প্রকাশিত

বাংলাদেশে করোনা ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। ইতিমধ্যে সরকার মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা, ঢাকার মীরপুরের কয়েকটি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ এ এলাকায় বাইরের কেউ প্রবেশ বা এলাকাবাসী বাইরে যেতে পারবে না। অন্যদিকে করোনা আতঙ্কে সারাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় বন্ধের উপক্রম। নিম্ন আয়ের মানুষের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। এই সকল বিষয় বিবেচনা করে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারাদেশের ভাড়াটিয়াদের বাড়ি ভাড়া, দোকানভাড়া মওকুফ ও ই-রেশনিং পদ্ধতি চালুর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ।

রবিবার (২২ মার্চ ) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এ দাবী জানান। তারা বলেন, রাজধানীর অধিকাংশ নাগরিকই অস্থায়ী এবং ভাড়াবাড়িতেই অবস্থা করেন। জীবন ও জীবিকার তাগিদে তাদের প্রতিনিয়ত কর্মক্ষেত্রে যেতে হয়। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সারাবিশ্বে লকডাউন চলছে। বাংলাদেশেরও পরিস্থিতি অনেকটাই লকডাউনের মতো। এ অবস্থায় জনশূন্যতার কারণে রাজধানীসহ সারাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়েছে পড়েছে।

নেতৃদ্বয় বলেন, যে শ্রমিকরা দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করতেন তারা বেকার হয়ে পড়েছেন। মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি। একদিকে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক অন্যদিকে অর্থাভাব। সাধারণ মানুষ একেবারে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে জনগণকে কিছু রেহাই দেয়ার জন্য আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই ভাড়াটিয়াদের বাসাভাড়া ও দোকানভাড়া মওকুফ করা হোক। বাড়ি মালিকদের সরকারি ট্যাক্স, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি বিলসহ সব ধরনের ইউটিলিটি বিল মওকুফ করে তাদের ক্ষতি পরনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

ন্যাপ নেতৃদ্বয় বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যারা অফিস আদালত বা ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকছেন তাদের অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করছে সরকার। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে এ ধরনের সহায়তা আশা করা অনেকটাই স্বপ্নের মতো। তবে সরকার চাইলে দ্রুত অনলাইনে ই-রেশনিং পদ্ধতি চালু করতে পারে। ই-কমার্সে যেভাবে অ্যাপসের মাধ্যমে অর্ডার ও পেমেন্ট দেয়া যায় ঠিক একইভাবে ই-রেশনিং নামে একটি অ্যাপস চালুর মাধ্যমে নাগরিকদের ঘরে বসে চাহিদা অনুযায়ী সাশ্রয়ী মূল্যে বা সরকার ভর্তুকি প্রদান করে সরকারি বা স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় পণ্য সরবরাহ করা যেতে পারে।

তারা আরও বলেন, এরই মধ্যে চীন ও ইতালির মতো লকডাউনের আশঙ্কায় চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপণ্য মজুদ বাড়িয়েছে বেশিরভাগ পরিবার। বাজারে নিত্যপণ্যসহ সবকিছুরই দাম বেড়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ঢাকাসহ সারা দেশের নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষদের অর্থনৈতিক সুরক্ষার প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে। আয় বন্ধ হওয়া বা কমে যাওয়া অতি সাধারণ দরিদ্র মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার যাতে সমস্যা না হয় সেজন্য জরুরি তহবিল গঠনে সরকারের ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত।

নেতৃদ্বয় বলেন, পরিস্থিতি যেদিকেই যাক, এটা নিশ্চিত যে, এ ধরনের সংকটকালে সব দেশেই সবার আগে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্ন আয়ের মানুষ ও অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম তো নয়ই, বরং বিপুল জনসংখ্যার এ দেশে এমন জনগোষ্ঠীর ঝুঁকি আরও বেশি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাই সরকারকে এখনই সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষদের সুরক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।