বিভাগ - স্বাস্থ্য

বিএসএমএমইউ ভিসি’র কার্যালয়ের সামনে পদোন্নতিবঞ্চিত চিকিৎসকদের অবস্থান

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদোন্নতিবঞ্চিত মেডিকেল অফিসাররা পদোন্নতির দাবিতে ভিসির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্সসূচী পালন করে। প্রায় দেড় যুগের বেশি সময় ধরে পদোন্নতি বন্ধ থাকায় আজ বৃস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পয়র্ন্ত উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তির কার্যালয়ের সামনে দুইশতাধিক পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিকেল অফিসার (দক্ষ সার্জন ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ) অংশ নেয়। এরপর দুপুর ১২ টায় দু্ই সদস্য দল উপাচার্য’র সঙ্গে স্বাক্ষাত করেন। তিনি বলেন, পরিবর্তী সিন্ডিকেট মিটিংয়ে বিষয়টি তোলা হবে।

এসময় পদোন্নতিবঞ্চিত চিকিৎসকরা উপাচার্যকে বলেন, দেশ-বিদেশে বিএসএমএমইউর মর্যাদা সমুন্নত রাখতে গবেষণা ও চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছন। ফলে বিএসএমএমইউ দেশের প্রথম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মেডিকেল শিক্ষা ও গবেষণায় অনন্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছেন। দেশের মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবায় আস্থার প্রতীক হিসেবে নজির স্থাপন করেছে।

কিন্তু দুঃখের বিষয় বিএসএমএমইউর দুই শতাধিকেরও বেশি স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী মেডিকেল অফিসার (দক্ষ সার্জন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক) সততা ও দক্ষতার সঙ্গে রোগীদের নিরলস সেবা দিয়েও প্রায় দেড় যুগের বেশি সময় ধরে পদোন্নতিবঞ্চিত।

অন্যদিকে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নীতিমালায় অনেক চিকিৎসক মেডিকেল অফিসার থেকে পদোন্নতি পেয়ে অধ্যাপক পদ মর্যাদায় উন্নীত হয়েছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ২০১০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সিন্ডিকেট বৈঠক বিএসএমএমইউর বিধিমালা থেকে নীতিমালাটি বাদ দেয়ায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।

অথচ সম্প্রতি সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর এক হাজার ৩০০-র বেশি চিকিৎসক নিয়ম অনুযায়ী পদোন্নতি পেয়েছন। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে পদোন্নতিসংক্রান্ত পূর্বের নীতিমাল পুনর্বহাল করে মেডিকেল অফিসারদের পদোন্নতি দিয়ে উন্নত সেবার সুযোগ দিলে রোগীরা মানসম্মত সেবা পাবে। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও চিকিৎসার মান বৃদ্ধি পাওয়ার মাধ্যমে সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে পরিচিতি লাভের লক্ষ্য বেগবান হবে।

চিকিৎসকরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৩তম সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে আগের পদোন্নতি আইনকে রহিত করা হয়েছে। এই আইন পরিবর্তনের কারণে প্রায় দুই শতাধিক বিশেষজ্ঞ মেডিকেল অফিসার এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পদোন্নতিবঞ্চিত রয়েছেন।

ফলে শিক্ষার্থীরা যেমন যথাযথ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তেমনি রোগীরাও তাদের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। পদোন্নতিবঞ্চিত চিকিৎসকগণ মেডিকেল অফিসার হিসেবে অবসর গ্রহণ করার আশঙ্কায়ই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এসময় বিএসএমএমইউর মেডিসিন, নিউরোমেডিসিন, নিউরোলজি, নিউরোসার্জারি, গাইনি, কার্ডিওলজি, অর্থোপেডিকস, রিউম্যোটোলজিসহ ৫৪টি বিভাগের চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।