বিজ্ঞানীদের প্রচেষ্টায় বছর জুড়ে মিলবে কাঠাল

প্রকাশিত

টি.আই সানি,গাজীপুরঃ আমাদের জাতীয় ফল কাঠাল মৌসুমী ফল হওয়ায় সব মৌসুমে এর স্বাদ যেমন মেলে না তেমনি মৌসুমে এর সংরক্ষন ব্যবস্থা গড়ে না উঠায় প্রতিনিয়ত কমছে এই ফলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব। তবে দেশীয় কৃষি বিজ্ঞানীরা নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা রোধ ও অর্থনৈতিক গুরুত্বধাবনে সারা বছর ধরে গাছে কাঠাল ধরে রাখার প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করেছেন। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এ ধরনের কাঠাল চাষ সম্প্রসারনের কার্যক্রম। এতে এক ধরনের সম্ভাবনা জেগেছে কাঠাল চাষ ঘিরে। প্রাথমিক পর্যায়ে কৃষি গবেষনা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে উচ্চফলনশীল বারোমাসী জাতের কাঠাল চাষ সম্প্রসারন প্রকল্পের অধীন ও সাডা নামক বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় খাগড়াছড়ির রামগড়, নরসিংদী, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ জেলায় মাঠ পর্যায়ে চলছে এ ধরনের কাঠাল চাষ সম্প্রসারনের কাজ। প্রতিটি জেলায় ২৫জন চাষী ও ৫জন নার্সারীর মধ্যে বারি উদ্ভাবিত চারা বিতরন করা হয়েছে। এছাড়াও এ ধরনের কাঠাল চাষে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষন দেয়া হচ্ছে। যা পর্র্যায়ক্রমে অচিরেই সারা দেশে ছড়িয়ে যাওয়ার আশা কৃষি বিজ্ঞানীদের।

কৃষি গবেষনা ইন্সস্টিটিউটের ফল বিভাগ ও উদ্যানতত্ব গবেষনাকেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের দেয়া তথ্য মতে, আমাদের দেশের সব এলাকাতেই মূলত কাঠালের চাষ হয়। তবে ঢাকার উঁচু অঞ্চল,ময়মনসিংহের ভালুকা,ভাওয়াল ও মধুপুরের গড়, সিলেটের পাহাড়ী এলাকা,রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি এলাকায় সর্বাধিক পরিমানে কাঠাল উৎপাদিত হয়। তবে কাঠাল মৌসুমী ফল হওয়ায় সাধারনত বছরে তিনমাসের বেশী কাঠাল পাওয়া যায় না। কাঠালের অর্থনৈতিক ও পুষ্টিগুনের কথা বিবেচনা করে দেশীয় কৃষিবিজ্ঞানীরা সারা বছর জুড়ে কাঠাল উৎপাদনের লক্ষ্যে ৩টি কাঠালের জাত উদ্ভাবন করে অবমুক্ত করেছেন। এর মধ্যে বারি-১ নামের জাতের উচ্চফলনশীল জাতের কাঠাল পাওয়া যাবে বছরের মে-জুন, উচ্চফলনশীল অমৌসুমী জাত বারি-২ জাতের কাঠাল পাওয়া যাবে জানুয়ারী-এপ্রিল, ও নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চফলনশীল বারো মাসি বারি-৩ পাওয়া যাবে সেপ্টেম্বর-জুন মাস পর্যন্ত।

উদ্ভাবিত এই ৩টি জাত সারাদেশেই চাষাবাদ যোগ্য। বারি-৩ এর উৎপাদন হেক্টরপ্রতি ১৩৩টন, বারি-১ এর উৎপাদন হেক্টরপ্রতি ১১৮টন ও বারি-২ এর উৎপাদন ৫৮টন। দীর্ঘদিন কাঠাল নিয়ে গবেষনা করছেন কৃষি গবেষনা ইন্সস্টিটিউটের ফল বিভাগের উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.মো.জিল্লুর রহমান। তিনি জানান, উদ্ভাবিত এই ৩টি জাতের মাধ্যমে সারা বছর ধরেই কাঠাল পাওয়া যাবে। মৌসুমের বাহিরেও অন্যান্য সময় ধরে উৎপাদিত কাঠালও হবে খুব সুস্বাদু। এতে যেমন দেশের লোকজন সারা বছর ধরে কাঠালের স্বাদ গ্রহন করতে পারবেন তেমনি অধিক মূল্যে কাঠাল বিক্রি করতেও পারবেন। দেশের মানুষের পুষ্টি ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়াবে কৃষি গবেষনা প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত কাঠালের এই তিনটি জাত।

তিনি আরো জানান, আমাদের দেশে কাঠালের অসংখ্য জাত রয়েছে, কিন্তু এর নির্দ্দিষ্ট কোন নাম নেই। এর মধ্যে সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আসে অসংখ্য বারোমাসী জাতের কাঠাল। এসব কাঠালের জাত ধরে রাখার উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় জরিপ করে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করে কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। গ্রাফটিং পদ্ধতিতে কাঠালের চারা রোপনের ২-৩ বছরের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। তার আশা এ ধরনের কাঠাল চাষে কৃষকরা স্বল্প সময়ের মধ্যে উৎসাহিত হবে এবং এর সম্প্রসারন ঘটবে।