বিজয়ের ৪৮ বছরেও মানবাধিকার ক্ষেত্রে সন্তুষ্টি নেই: আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: রাষ্ট্র ও সমাজের বহুক্ষত্রে বিজয়ের ৪৮ বছরে অনেক সফলতা ও অগ্রগতির গৌরব তৈরি হলেও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে যেন অসন্তুষ্টির পরিমানটা অনেকটাই বেশী বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে এগিয়ে নিতে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নাই। যা ছিলো মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার। কিন্তু বাংলাদেশের বিজয়ের ৪৮ বছর পূর্তীর সময়ও অঙ্গিকার আর প্রপ্তির মধ্যে অর্জন ও দূরত্বটা রয়েই গেছে।

রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) নয়াপল্টনের যাদু মিয়া মিলনায়তনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার যে প্রচেষ্টা স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত হয়েছে, সেখানে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব থেকে শুরু করে বেশকিছু অনাকাঙ্খিত মানসিকতা ও চর্চা বারবারই বাঁধা হয়েছে। মাত্র এক বছর পর বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তি উৎসবে মেতে ওঠার আগে এসব অপূর্নতার অনেকটুকুই পূরণ করা সম্ভব জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।

সভাপতির বক্তব্যে মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা’র সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহন করেন ন্যাপ ভাইস চেয়ারম্যান স্বপন কুমার সাহা, রাজনীতিক মো. শহীদুননবী ডাবলু, কৃষক নেতা মো. কামাল ভুইয়া, মো. শামিম ভুইয়া, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট সাইফুল ইসলাম সেকুল, হামিদা খানম, মো. মঞ্জুরুল ইসলাম কাজল প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, বিজয়ের ৪৮ বছর পরও প্রশ্ন জাগে – আমাদের সংবিধানে সন্নিবেশিত মৌলিক অধিকার ভোগ করতে না পারা নিয়ে। প্রতিদিন পত্রিকার পাতা উল্টালে এবং টেলিভিশনের খবর দেখলে বাংলাদেশের মানবাধিকারের পরিস্থিতি সম্পর্কে ইতিবাচক সংবাদের এত আকালের খবরতো অকারণে জায়গা পাওয়ার কথা নয়। এক্ষেত্রে সবার মনে রাখা উচিৎ – রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সরকার নাগরিকদের রাষ্ট্র প্রদত্ত মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কতটুকু আন্তরিক ও সচেষ্ট তার উপরই নির্ভর করে দেশে সত্যিকার অর্থে সু-শাসনের চিত্র কি।

তিনি বলেন, যেখানে সু-শাসন নাই, মৌলিক অধিকার নাই, মানবাধিকার নাই, আইনের শাসন নাই, বাক ও বিবেকের স্বাধীনতা নাই, বিরোধী দলের মর্যাদা নাই – সেখানকার মানুষ কোনোভাবেই সুখ, শান্তি বা নিরাপদে থাকতে পারেনা। এই চিত্র পাল্টে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ অনেক অনুসরনিয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারলে তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার এক বিশাল বিজয় হবে বলে জাতি বিশ্বাস করে।