বিভাগ - অপরাজিতা

বিডিওএসএন-এর উদ্যোগে জানুয়ারি-তে প্রথমবারের মত অ্যাডা লাভলেস উদযাপন

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের উদ্যোগে দেশের সকল টেক-নারীদেরকে এক প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে আগামী বছর ২০২০ সালের ২ এবং ৩ জানুয়ারি-তে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অ্যাডা লাভলেস সেলিব্রেশন। কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর প্রবর্তক অ্যাডা লাভলেস এর জন্মদিন আজ ১০ ডিসেম্বরে এ উদযাপনের উদ্বোধন ঘোষণা করা হয় ঢাকায় বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) এর কার্যালয়ে।

মূলত তথ্য প্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী এমন নারী শিক্ষার্থীদের সংযুক্ত করা হবে এই আয়োজনে যেখানে তাদের উৎসাহ দিতে উপস্থিত থাকবেন টেক জগতে প্রতিষ্ঠিত নারী ব্যক্তিত্ব। ২ ও ৩ জানুয়ারি এই আয়োজনে দুইদিনব্যাপী থাকবে সেমিনার, ওয়ার্কশপ, পলিসি ডায়ালগসহ বিভিন্ন আয়োজন যেখানে নারী শিক্ষার্থীরা তথ্য প্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার গঠনের নির্দেশনাসহ দক্ষতা উন্নয়নের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ নেয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়াও সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা নারীদের জন্য থাকবে জব ফেয়ার। দেশের স্বনামধন্য চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সিভি জমা দেয়ার সুযোগ থাকবে এখানে। যারা স্নাতক শেষে উচ্চতর শিক্ষার জন্য বিদেশে পড়তে যেতে ইচ্ছুক তাদের জন্য একই প্ল্যাটফর্মে রয়েছে তথ্য সম্বলিত নির্দেশনা। থাকবে প্রোগ্রামিং কন্টেস্ট, পোস্টার প্রতিযোগিতা। নব্য নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে ১০ জন নারী নিজেদের ব্যবসায়িক উদ্যোগের পিচিং করার সুযোগ পাবেন।

উদ্বোধন ঘোষণা করতে আজকের আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বিডব্লিউ আইটির সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর রোবটিক্স এন্ড মেকাট্রনিক্স ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল ও দৈনিক প্রথম আলোর যুব কর্মসূচীর প্রধান এবং বিডিওএসএন এর সাধারন সম্পাদক মুনির হাসান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আগত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নারী শিক্ষার্থী প্রমুখ। ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই আয়োজনে দেশের সকল নারী শিক্ষার্থীদের অংশ নিতে আমন্ত্রন জানান নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নোভা আহমেদ। তিনি বলেন, আমরা একসাথে অনেক কিছু করতে পারি। তাই নতুনদের সাথে পুরোনদের নেটওয়ার্কিং টা খুব জরুরি। আর এই কাজটাই আমরা করছি অ্যাডা লাভলেস উদযাপনে। এই আয়োজনে আমরা জানব প্রযুক্তির জগতের নারী রোল মডেল কারা যারা দূর্দান্তভাবে কাজ করে যাচ্ছেন শিক্ষা খাতে, গবেষণা খাতে, কর্পোরেট কিংবা প্রযুক্তির উদ্যোক্তা জগতে। তাদের কাছ থেকে তথ্য প্রযুক্তি কে সাথে নিয়ে সামনে এগোনোর অনুপ্রেরণা নেবো আমরা সবাই।

মুনির হাসান বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি নিয়ে পড়াশুনা করলেও বাংলাদেশে মাত্র ১৩% নারী এই খাতে কাজ করছে। ধীরে ধীরে এই সংখ্যাটা এখন বাড়তে শুরু করেছে। আইওটি, রোবটিক্স, মেশিন লার্নিং ইত্যাদি বিষয়ে এখন নারীদের আগ্রহ বাড়ছে। এরই প্রতিফলন দেখা যাবে আসন্ন অ্যাডা লাভলেস উদযাপনে। এখানে অংশ নেবেন সারাদেশের প্রায় এক হাজার নারী শিক্ষার্থী। ড. লাফিফা জামাল একমত পোষন করে বলেন, তথ্য প্রযুক্তিতে নারী পুরুষের সমান অংশগ্রহণ ছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণ সম্ভব নয়। কোথায় নিজের দক্ষতা প্রমাণ করা যাবে সে সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা নিতে তিনি সকল নারী শিক্ষার্থীদের এই উদযাপনে অংশ নিতে আহবান জানান। তিনি আরও বলেন, আইসিটি লিডারশিপে কিংবা তথ্য প্রযুক্তির উচ্চপদস্থ পর্যায়ে নারী কর্মী একেবারেই নগন্য। এই সেক্টরে নারীর সংখ্যা বাড়াতে এগিয়ে আসতে হবে মেয়েদের নিজের আগ্রহে। আর তাই অ্যাডা লাভলেস উদযাপন হতে পারে তাদের জন্য একটি সহায়ক আয়োজন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই আয়োজনে অংশ নেবেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নারী শিক্ষার্থীরা। উদযাপনে অংশগ্রহণের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে- http://alc.bdosn.org/ এই সাইটে। উল্ল্যেখ্য, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের তিন বছর মেয়াদি ‘এনাবলিং সাসটেনএবল ডেভেলপমেন্ট গোলস ফর বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই আয়োজন। অ্যাডা লাভলেস উদযাপনে সাথে আছে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রাইভেট ইকুইটি এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ভিসিপিইএবি) এবং বাংলাদেশ উইমেন ইন টেকনোলজি (বিডব্লিউআইটি)।