বিভাগ - সারাদেশ

বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সিলেটে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালিত

প্রকাশিত

সিলেট প্রতিনিধি: ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই উন্নয়ন: দুর্নীতির বিরুদ্ধে একসাথে’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টিআইবির অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), সিলেট; দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সিলেট এবং জেলা প্রশাসন সিলেট এর যৌথ আয়োজনে সিলেটে ০৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালিত হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে ৯ ডিসেম্বর সকাল ১০.০০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। এরপর দুর্নীতিবিরোধী ফেস্টুন ও বেলুন উড়িয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সম্মূখে দুর্নীতিবিরোধী মানববন্ধন ও দুর্নীবিরোধী গণ-স্বাক্ষর গ্রহণ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ ছাড়াও সনাক-সিলেট এর ইয়েস গ্রুপ অনুষ্ঠানস্থলে দিবস সংক্রান্ত পাঁচ শতাধিক ধারণাপত্র বিতরণ করেন এবং দুর্নীতিবিরোধী কার্টুন প্রদর্শন এর আয়োজন করেন।

অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ আসলাম উদ্দিনের পরিচালনায় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান পিএএ। এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক সিলেট; আবদুল্লাহ আল জাহিদ, পরিচালক, দুদক সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় এবং সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), সিলেট এর সভাপতি আজিজ আহমদ সেলিম। আলোচনা সভায় বক্তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সকলকে একতাবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান। অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী, টিআইবি, সনাক, স্বজন, ইয়েস ও ইয়েস ফ্রেন্ডস গ্রুপ, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক), সততা সংঘ, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।

সনাক-টিআইবি আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস ২০১৯ উপলক্ষ্যে দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের বিবেচনার জন্য নি¤œলিখিত সুপারিশসমূহ প্রস্তাব করছে:
১. চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের বাস্তব সুফল নিশ্চিতে কোনো প্রকার ভয় বা করুণার ঊর্ধ্বে থেকে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না” এই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হবে;
২. অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই অভীষ্ট অর্জনে সকল অভীষ্টের কার্যকর বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হিসেবে অভীষ্ট ১৬ এর ওপর সর্বাধিক প্রাধান্য নিশ্চিত করতে হবে এবং এ লক্ষ্যে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে;
৩. দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণ, গণমাধ্যম ও বেসরকারি সংগঠনসমূহ যাতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে পারে, তার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে;
৪. সকল নাগরিকের বাক্-স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ ও ‘ফরেন ডোনেশনস (ভলান্টারি অ্যাক্টিভিটিস) রেগুলেশন অ্যাক্ট’ এর নিবর্তনমূলক ধারাসমূহ বাতিল করতে হবে;
৫. সরকারি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে ‘সরকারি চাকরি আইন ২০১৮’ এর বিতর্কিত ধারাসমূহ বাতিল করতে হবে;
৬. ঋণ খেলাপিতে জর্জরিত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি ও জালিয়াতি এবং বেসরকারি ব্যাংকের নজিরবিহীন আর্থিক কেলেঙ্কারির সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গকে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে; এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাবনা প্রণয়নের জন্য নিরপেক্ষ, যথাযথ যোগ্যতাসম্পন্ন, নিরপেক্ষ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশন গঠন করতে হবে;
৭. বিচার ব্যবস্থা, প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় পেশাদারি উৎকর্ষ ও কার্যকরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ও পরিপূরক কৌশল গ্রহণ করতে হবে; এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান ও সদস্যদের নিয়োগে যোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারণ এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে;
৮. তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর কার্যকর প্রয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, বিশেষ করে তথ্যের আবেদনকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে;
৯. জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১’ বাস্তবায়নের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে এ আইন সম্পর্কে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর বিভিন্ন কর্মসূচি নিতে হবে।
১০. দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদককে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানটির ওপর সকল প্রকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সরকারি ও রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে দুদকে নেতৃত্ব পর্যায়ে অকুতোভয় সৎসাহস, দৃঢ়তা ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে এর ওপর অর্পিত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনে দৃষ্টান্তমূলক কার্যকরতা নিশ্চিত করতে হবে।