বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে বৃহত্তম জুমার নামাজ আদায়

প্রকাশিত

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের টঙ্গীতে তুরাগ নদীর তীরে প্রথম পর্বের ইজতেমা চলছে। প্রথম দিনে শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) লাখো মুসল্লি একসঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করেছেন। তাবলিগ জামাতের মুসল্লি ছাড়াও ঢাকা, উত্তরা, টঙ্গী ও গাজীপুরসহ আশপাশের লাখ লাখ মুসল্লি জুমার নামাজে অংশ নেন। আজ দেশের বৃহত্তম জুমার নামাজ আদায় করা হলো এখানে।

ইজতেমা ময়দানে জুমার নামাজে খুতবা পাঠ শুরু হয় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। নামাজ শুরু হয় ১টা ৪০ মিনিটে। এতে ইমামতি করেন রাজধানীর কাকরাইল মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়ের। দেশ ও জাতির শান্তি-সমৃদ্ধি কামনার পাশাপাশি মুসল্লিদের কণ্ঠে ছিলো ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান।

দুপুর ১২টার দিকে ইজতেমার পুরো ময়দান পূর্ণ হয়ে যায়। মাঠে স্থান না পেয়ে অনেক মুসল্লিরা বাড়ির ছাদ, নৌকা, গাড়ির ছাদে মহাসড়ক ও অলি-গলিসহ যে যেখানে সম্ভব করতে পেরেছেন সেখানেই পাটি, চটের বস্তা ও খবরের কাগজ বিছিয়ে জুমার নামাজে শরিক হয়েছেন। এর আগে সকাল থেকে ইজতেমামুখী মানুষের স্রোত নামে টঙ্গীর তুরাগ তীরে। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মুসুল্লিরা জুমার নামাজে শরিক হন।

আজ ফজরের পর আমবয়ানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ইজতেমা শুরু হয়। জুমা বার হওয়ায় নামাজের আগেই ইজতেমার পুরো প্যান্ডেল ও ময়দান কানায় কানায় ভরে যায়। প্যান্ডেলের নিচে জায়গা না পেয়ে মুসল্লিরা অবস্থান নেন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ আশেপাশের সড়ক, গলি ও ফুটপাথগুলোতে।

অন্যান্য বছরের মতো এবারও উপস্থিত লাখ লাখ মুসল্লির উদ্দেশে যথারীতি তাবলীগের ছয় উসূল অর্থাৎ কালেমা, নামাজ, এলেম ও জিকির, একরামুল মুসলিমিন, সহীহ নিয়ত ও তাবলীগ বিষয়ে আমবয়ানের মাধ্যমে ইজতেমার প্রথম পর্বের তিনদিনের কার্যক্রম শুরু হয়।

ইজতেমা ময়দানের মুরব্বী প্রকৌশলী মফিজুর রহমান জানান, শুক্রবার বাদ ফজর থেকে শীর্ষ মুরব্বি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ খুরশীদের আম বয়ান করেন। এসময় বাংলায় বয়ান তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল মতিন। মূল বয়ান উর্দূতে হলেও ইজতেমায় আসা বিভিন্ন দেশের মুসল্লিদের জন্য স্ব স্ব ভাষায় তাৎক্ষণিক বয়ান তরজমা করা হয়। প্রতিবারের মতো এবারও বিশ্ব ইজতেমায় বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের তাবলিগ মারকাজের শুরা সদস্য ও বুজর্গরা বয়ান পেশ করবেন। মূল বয়ান উর্দূতে হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বাংলা, ইংরেজী, আরবি, তামিল, মালয়, তুর্কি ও ফরাসিসহ বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হয়। বিদেশি মুসল্লিদের জন্য বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের উত্তর-পশ্চিম পাশে নিবাস তৈরি করা হয়েছে। ইজতেমায় বিভিন্ন ভাষাভাষি মুসল্লিরা আলাদা আলাদা স্থানে অবস্থান নিয়েছেন।