বিভাগ - কৃষি

বেশি মূল্য পেয়ে খুশি সবজি চাষিরা

প্রকাশিত

বেনাপোল প্রতিনিধি ঃ বেশি মূল্য পেয়ে খুশি সবজি চাষিরা। দেশের অন্যতম বৃহৎ সবজি বাজার যশোরের বারীনগরে পাইকাররা যে দাম দিচ্ছেন, তা অব্যাহত থাকলে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন। বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ধর্মঘটের কারণে দূর-দূরান্তের পাইকাররা তেমন একটা সবজি কেনেনি। সেই কারণে বাজারে সবজি তুলেও মূল্য পাননি কৃষকেরা। ধর্মঘট প্রত্যাহার হওয়ায় পাইকরি বাজার বেশ চাঙা হয়ে ওঠে। পাইকাররা দামও দিচ্ছেন আশানুরূপ। এখন ক্ষেত থেকে সবজি তুলে তা বাজারজাত করতে বেশ ব্যাস্তসময় পার করতে হচ্ছে বারীনগর, ঝিকরগাছা, ,আব্দুলপুরসহ আশপাশের এলাকার কৃষকদের।

বাজারে আড়াই মণ ফুলকপি এনেছিলেন ঝিকরগাছা গ্রামের কৃষক রুবেল হোসেন। সেগুলো তিনি বিক্রি করেছেন ৫৫ টাকা কেজিতে। বড়হৈবতপুর গ্রামের চাষি আলাউদ্দিন মন্ডল এবার দেড় বিঘা জমিতে শিম, এক বিঘা জমিতে বেগুন আর ১৫ কাঠা জমিতে পটল চাষ করেছেন। বাজারে ৯০ কেজি শিম এনেছেন। তিনি জানান, আগেরদিন বৃহস্পতিবার বাজারে দুইশ কেজি শিম এনেছিলেন। কিন্তু, ট্রাক না চলায় পাইকাররা তেমন একটা সবজি কেনেনি। দামও ছিল খুব কম। মাত্র ২০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিলেন। আজ বিক্রি করেছেন ৩৪ টাকা দরে।

চট্টগ্রামের পাইকার জানে আলম জুনুর মন্তব্য, বাজারে সবজির মূল্য বেশি। তিনি দীর্ঘদিন বারীনগর বাজার থেকে সবজি কিনে ফেনী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করেন। জুনু জানান, মাঝে বর্ষার কারণে সবজির উৎপাদন কমে গেছে। এখন বাজারে মূল্য একটু বেশি। এই সময়ে ফুলকপি প্রতি কেজি ১০ থেকে ১২ টাকা হওয়ার কথা। কিন্তু, বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। ১৮-২০ টাকার ঝাল (কাঁচা মরিচ) বিক্রি হচ্ছে ২৮-৩০ টাকায়।

বেপারি খাইরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে সবজির মূল্য একটু বেশি। বারীনগর বাজারে মুলা ৩০ টাকা কেজি, বেগুন ৩০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৩০ টাকা, পটল ৩০ টাকা, শিম ৩৫ টাকা, উচ্ছে ৫০ টাকা, ফুলকপি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ২০ টাকা পিস, মানকচু ২০-২৫, মানভেদে ৩০ টাকা কেজি, মেটেআলু ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক সুশান্ত তরফদার বলেন, যশোর জেলায় এবার ২০ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হচ্ছে। আগাম সবজিচাষে প্রতিকূল পরিবেশের বিষয়টি কৃষকের মাথায় রাখতে হয়। সেক্ষেত্রে অবশ্য কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের মূল্যও বেশি পায়, যেমন এখন পাচ্ছে। আর শীতকালীন সবজিচাষে এখন অনুকূল পরিবেশ।