বৈশ্বিক সংকটকে পূঁজি করে ‘রাজনীতির অশুভ খেলায়’ মেতেছে বিএনপি: কাদের

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: আন্দোলন-নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে বৈশ্বিক সংকটকে পুঁজি করে বিএনপি ‘রাজনীতির অশুভ খেলায়’ মেতে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘করোনা মোকাবিলায় শেখ হাসিনার সরকার যখন সকলকে নিয়ে সম্মিলিত প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনই বিএনপি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাচ্ছে না।’

বুধবার (২০ মে) সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জনগণ জানতে চায়, কথামালার চাতুরি আর প্রেস বিফ্রিং ছাড়া বিএনপি অসহায় মানুষের জন্য কী করতে পেরেছে? চৌকস কথার ফুলঝুড়ি আর গলাবাজি ছাড়া দেশ ও জাতিকে বিএনপি কী দিতে পেরেছে?’

তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব ক্ষণেক্ষণে বিদেশের কথা বলেন। অনেক দেশে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো করোনা ফান্ড গঠন করে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমি উনার (ফখরুল) কাছে জানতে চাই- আপনারা কি করেছেন, জাতি জানতে চায়। বরাবরের মত নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য সরকারের বিরুদ্ধে মরচেধরা মিথ্যাচারের ও অকার্যকর হাতিয়ার ব্যবহার করছেন।’

ত্রাণ কার্যক্রমের অনিয়ম প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ত্রাণ কার্যক্রমে যে কোনও অনিয়মের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সরকার কঠোর অবস্থানে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক, দলীয়, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ তারই সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। দলীয় পরিচয় কাউকে রক্ষা করতে পারেনি। এ বিষয়ে শেখ হাসিনা শূন্য সহিষ্ণুতার পরিচয় দিচ্ছেন।’

সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের চেয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যুতে অনেক ভয়াবহ অবস্থান। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। আমি জানতে চাই, পৃথিবীর কোন দেশের সরকার এই মৃত্যু মিছিল ঠেকাতে পারছে। খোদ যুক্তরাষ্ট্রের মৃতের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যে ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে। অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দেশগুল আজকে লকডাউন শিথিল করতে বাধ্য হচ্ছে।’

যে সকল শিল্প-কারখানায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দেয়া হয়নি দ্রুতই দেয়ার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি, এখনো দেশের অনেক শিল্প-কারখানার মালিকরা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করেননি। শ্রমিকদের মাঝে বিক্ষোভ-অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রতিদিন শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসছে, যা এই সংকটকালে অনাকাঙ্ক্ষিত। আমি গার্মেন্টসসহ অন্যান্য কারখানা মালিকদের অনুরোধ করছি, যারা এখনও বেতন-ভাতা পরিশোধ করেননি, আপনারা অবিলম্বে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করুন।’

গ্রামমুখী মানুষের উদ্দেশ্যে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও যারা দলে দলে গ্রামমুখী হচ্ছেন নানা কৌশলে স্থানান্তরের চেষ্টা করছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, সরকার স্থানান্তর বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমরা আবারও অনুরোধ করছি, আপনারা নিজ নিজ অবস্থানে থাকুন।’

তিনি বলেন, ‘ঘর থেকে বের হয়ে পথিমধ্যে আটকে পড়ার ঝুঁকি নেবেন না। তখন এদিক-ওদিক দুদিকই হারাতে হবে এবং ভোগান্তিতে পড়তে হবে। কাজেই এ সংকট মোকাবিলায় সরকারকে সহযোগিতা করুন। নিজেদের সহযোগিতা করুন। অন্যথায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরও কঠোর অবস্থানে যেতে হবে।’