ব্রিটেনের জেলেই মৃত্যু হতে পারে অ্যাসাঞ্জের, আশঙ্কা চিকিৎসকদের

প্রকাশিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী বিকল্প ধারার সংবাদমাধ্যম উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা কারাবন্দি জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের অসুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন দেশের ৬০ জন চিকিৎসক। ব্রিটেনের জেলে বন্দী জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের শারীরিক অবস্থা এতোই খারাপ যে তিনি জেলেই মারা যেতে পারেন বলে ওই চিকিৎসকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। খবর গার্ডিয়ানের

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেলের কাছে লেখা এক খোলা চিঠিতে চিকিৎসকরা তাদের এ শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, জার্মানি, সুইডেন, শ্রীলংকা ও পোলান্ডের ৬০ জন চিকিৎসক এই খোলা চিঠি লিখেছেন। সোমবার এই চিঠি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ বর্তমানে যুক্তরাজ্যের হাই সিকিউরিটি বেলমার্শ কারাগারে বন্দী আছেন। অ্যাসাঞ্জকে বেলমার্শ কারাগার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো হাসপাতালে স্থানান্তর করার অনুরোধ জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে।

১৬ পৃষ্টার খোলা চিঠিতে বলা হয়েছে, অ্যাসাঞ্জের শারীরিক এবং মানসিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে তাকে হাসপাতালে নেওয়া দরকার। অ্যাসাঞ্জকে হাসপাতালে নেওয়া না হলে জেলেই মারা যেতে পারেন তিনি। গত ২১ অক্টোবরে অ্যাসাঞ্জকে লন্ডনের একটি আদালতে তোলা হয়েছিল। সেখানে প্রত্যক্ষদর্শীরা তার শারীরিক অসুস্থতা প্রত্যক্ষ করেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক অ্যাসাঞ্জ ২০১০ সালে উইকিলিকসের মাধ্যমে পেন্টাগন ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লাখ লাখ সামরিক ও কূটনৈতিক গোপন নথি ফাঁস করে দিয়ে বিশ্বজুড়ে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন। এসব নথি যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও পেন্টাগনকে চরম বেকায়দায় ফেলে দেয়। তবে এসব নথি প্রকাশের পরপরই অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে সুইডেনে দুই নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। গ্রেফতার এড়াতে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নেন তিনি। ২০১২ সালের জুন থেকে সেখানেই ছিলেন তিনি। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণের অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মনে করে মুক্তমতের পক্ষের অ্যাক্টিভিস্টরা। অ্যাসাঞ্জও প্রথম থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। পরে সুইডেনের সেই মামলা উঠে গেলেও ব্রিটিশ আইন ভাঙায় আবার গ্রেফতার হওয়ার ভয়ে তিনি বের হতে পারছিলেন না।

লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নেওয়ার প্রায় ৭ বছর পর গত ১১ এপ্রিল অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতার করে ব্রিটিশ পুলিশ। সেসময় লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আদালতে আত্মসমর্পণ না করায় অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গুপ্তচরবৃত্তি বিষয়ক আইনের অধীনে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের দাবি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেই দাবির বিরুদ্ধে এখন লড়াই করছেন অ্যাসাঞ্জ। আগামী ফেব্রুয়ারিতে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানি হওয়ার কথা।