ভূমি অধিগ্রহন বিভাগের খামখেয়ালীপনায় নি:স্ব প্রায় ফরিদা আক্তারের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত

রাসেল কবির মুরাদ , কলাপাড়া(পটুয়াখালীপ্রতিনিধি ঃ ভূমি অধিগ্রহন বিভাগের খামখেয়ালীপনায় নি:স্ব হবার শংকায় একজন গৃহীনি ফরিদা আক্তার। ভ’মি অধিগ্রহন বিভাগের সংশ্লিস্ট কতৃপক্ষ তার পুরোনো পাকা বসতঘরকে কাগজে-কলমে নতুন তৈরি স্থাপনা উল্লেখ করায় গচ্ছিত অর্থ ব্যয়ে র্নিমিত স্বপ্নের বসতভিটা বাড়ীসহ সর্বস্ব হারাতে বসেছে। বিষয়টি নিয়ে এ গৃহিনী জেলা প্রশাসক, ভ’মি অধিগ্রহন শাখায় বারবার যোগাযোগ করলেও কোনই সুফল হয়নি। মঙ্গলবার কলাপাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাংবাদিক সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন কলাপাড়ার ধানখালী ইউনিয়নের গৃহীনি ফরিদা আক্তার। এসময় তার স্বামী মজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে ফরিদা আক্তার বলেন, তার স্বামী মজিবুর রহমান অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য। ২০০০ সালে অবসরের পর তিনি বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করছেন। উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের পাঁচজুনিয়া মৌজার জেএল নং-৭১ এর ১৫০ ও ২১০৪ নং এসএ খতিয়ানের ১১৮৪, ১১৯৩, ১১৮৫ নং প্লটের ধানখালী ডিগ্রী কলেজের সামনে ৪৮ শতাংশ জমিতে বানিজ্যিক চিন্তায় তিনতলা পাকা স্থাপনা র্নিমান করেন। প্রকৌশলীর মাধ্যমে ০৬.৩.২০১৪ তারিখে ডিজাইন ও প্লান তৈরি করে অর্জিত সকল তহবিল বিনিয়োগ করে ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসে স্থানীয় গনমান্যসহ জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতে মিলাদের মাধ্যমে বাড়ীর কাজের উদ্ভোধন করেন। তিনি আরো বলেন, ০২/২০১৭-১৮ এলএ কেসের মাধ্যমে ওই মৌজায় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানীর জন্য ভ’মি অধিগ্রহন করলে তার বসতবাড়ি খানা চলে যায়। এসময় অধিগ্রহন তালিকায় তার পুরনো পাকা একতলা ভবনটিকে নতুন তৈরি স্থাপনা হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্রায় কুড়ি লক্ষ টাকা ক্ষতি মুখে পড়েছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকসহ ভ’মি অধিগ্রহন শাখায় বারবার ধর্না দিলেও কোন সুরাহা পাননি।

আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানী লি.’র নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম রব্বানী বলেন, ফরিদা আক্তারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভ’মি অধিগ্রহন শাখার সার্ভেয়ার, কানুনগোসহ মেজিস্ট্রেট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বাড়িটি পুরোনো এমনটি আমার জানা থাকলেও ভ’মি অধিগ্রহন সংক্রান্ত সকল বিষয়ের এখতিয়ার জেলা প্রশাসনের। কাজেই এ বিষয়ে সিদ্বান্ত তারাই দিতে পারবেন।

ভূমি অধিগ্রহন বিভাগের সার্ভেয়ার আসাদ বলেন, ফরিদা বেগমের বাড়ীটি পুরনো বাড়ী হিসাবে তালিকাভ’ক্ত করার জন্য সুপারিশ করেছি। সরেজমিনে তদন্তকারী মেজিস্ট্রেট জায়েদ আল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, কাগজপত্র নিয়ে ফরিদা বেগমকে দেখা করতে বলা হয়েছে। কানুনগোর সাথে আলোচনা করে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মামুনুর রশীদ সরেজমিনে তদন্তকারী মেজিস্ট্রেট জায়েদ আল হাসান’র সাথে ফরিদা আক্তারকে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়ে বলেন, পুরনো বাড়ী নতুন হিসাবে তালিকাভ’ক্ত হওয়ার কথা নয়। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যাক্তি আবেদন করলে পুন:বিবেচনা করে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ব্যকস্থা নেয়া হবে।