ভোলায় অকস্মিক ঝড়ে আড়াই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

প্রকাশিত

কামরুজ্জামান শাহীন,ভোলা: ভোলার লালমোহন,মনপুরা ও চরফ্যাশনে আকস্মিক ঝড়ে প্রায় আড়াই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (২৭ মে) রাত ১০ টার দিকে অকস্মিক ঝড়ে এসব ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়।

এদিকে করোনা ভাইরাসের মধ্যে উপক‚লের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কিভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন তা নিয়ে তারা চিন্তিত।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে অকস্মিক ঝড়ে উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ, রমাগঞ্জ ও ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। এছাড়া ঝড়ে আঘাতে ছিঁড়ে যায় বিদ্য‚তের লাইন । ফলে ঐ সব এলাকায় বিদ্যূৎ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে লালমোহনে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুন্নবী চৌধূরি শাওন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাবিবুল হাসান রুমি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন।

এদিকে চরফ্যাশন উপজেলায় বুধবার রাতে ঝড়ে আমিনাবাদ, নুরাবাদ ও নীলকমল এলাকার কিছু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রুহুল আমিন ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে পরিদর্শন করেন। এই সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারগন।

এছাড়া ভোলার বিছিন্ন দ্বীপ মনপুরা উপজেলায় ঝড়ে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের শতাধিক ঘরবাড়ী বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঝড়ে ঘরবাড়ীসহ গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) বিপুল চন্দ্র দাস। এই সময় উপস্থিত ছিলেন হাজিরহাট ইউপি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার চৌধুরী দ্বিপকসহ সংশ্লিষ্ট ইউপি মেম্বার ও গনমাধ্যম কর্মীরা।

এব্যাপারে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল চন্দ্র দাস বলেন, হঠাৎ ঝড়ে শতাধিক ঘরবাড়ীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বিধ্বস্ত ঘরবাড়ীগুলো পরিদর্শন করেছি। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে আলাপ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ২০ কেজি করে চাউল দেওয়ার ব্যাবস্থা করেছি। সম্পুর্ন বিধ্বস্ত ঘরগুলোর জন্য নগদ টাকা ও টিনের ব্যাবস্থা করা হয়েছে। এইসব টিন ও নগদ টাকা দ্রুত বিতরন করা হবে। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদেরকে সম্পুর্ন বিধ্বস্ত ও আংশিক বিধ্বস্ত ঘরগুলোর তালিকা জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।