বিভাগ - সারাদেশ

মরিচ ক্ষেতের সাথে এ কেমন শত্রুতা!

প্রকাশিত

আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় শত্রুতার বসে ইসরাইল হোসেন(৪৫) নামে এক বর্গাচাষির এক হাজার ৮শত মরিচ গাছ তুলে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার(১২ ডিসেম্বর) আদিতমারী থানায় তিন জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কৃষক ইসরাইল। ক্ষতিগ্রস্থ বর্গাচাষি ইসরাইল হোসেন উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের আরাজি দেওডোবা গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ভুমিহীন কৃষক ইসরাইল হোসেন অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে তিন সন্তানের লেখাপড়াসহ ৫ সদস্যের সংসার পরিচালনা করছেন। ৩বছর আগে সঞ্চিত অর্থের ২০ হাজার টাকায় স্থানীয় আবুল কাশেমের ছেলে আব্দুর রহিম শিমুলের ১৩ শতাংশ জমি বন্দক নিয়ে চাষাবাদ করছেন। হঠাৎ সেই জমির মালিকানা দাবি করে ফসল নষ্ট করার হুমকী দেন পাশের টেপাটারী গ্রামের কাসেম প্রধানের ছেলে আলা উদ্দিন, জালাল উদ্দিন ও জয়নাল।

প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ করে ওই ১৩ শতাংশ জমিতে এক হাজার ৮শতটি মরিচ চারা রোপন করেন বর্গাচাষি ইসরাইল। সন্তানের মতই পরিচর্যা করে বড় করেছেন মরিচ গাছ। ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে মরিচ ক্ষেত। মাত্র ১৫/২০ দিনের মধ্যেই ক্ষেতে মরিচ বাজারে পাঠানো যেত। হঠাৎ বুধবার(১১ ডিসেম্বর) রাতে সেই ক্ষেতের সবগুলো মরিচ গাছ তুলে পাশের স্বর্নামতি সতি নদীতে ফেলে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার সকালে ক্ষেতের এ অবস্থা দেখে কয়েকটি গাছসহ থানায় হাজির হন বর্গাচাষি ইসরাইল হোসেন।

এ ঘটনায় বিচার চেয়ে আদিতমারী থানায় আলা উদ্দিন, জালাল উদ্দিন ও জয়নালের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কৃষক ইসরাইল হোসেন।

কৃষক ইসরাইল হোসেন বলেন, তিন বছর ধরে ওই জমি চাষাবাদ করছি। গত বছর প্রায় লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করেছি। এবারো লক্ষাধিক টাকা আয় হত ওই ক্ষেতের মরিচ থেকে। কিন্তু আলা উদ্দিনরা গাছগুলো উফরে তুলে নদীতে ফেলে দিয়েছে। ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে মরার ছাড়া কোন উপায় নেই।

কৃষক ইসরাইলের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম কান্না জরিত কন্ঠে বলেন, গাছগুলো সন্তানের মত বড় করেছি। সকালে দেখি সেই সন্তান তুল্ল্য গাছগুলো তুলে ফেলে দিয়ে স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়েছে আলা উদ্দিনরা। তিনি এর প্রতিকার দাবি করেন।

ওই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, গরিব চাষির মরিচ ক্ষেতের সাথে শত্রুতা করা ঠিক হয়নি। জমি পেলে আইনের আশ্রয় নেয়া উচিৎ ছিল। যারা এ কাজ করেছেন তাদের শাস্তি হওয়া উচিৎ বলেও দাবি করেন তিনি।

আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ক্ষেতের ফসল নষ্ট করা চরম অমানবিক। অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।