মহামারি করোনার প্রভাবে কুয়াকাটা পর্যটনশিল্পে শতকোটি টাকা লোকসান!

প্রকাশিত

রাসেল কবির মুরাদ , কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি ঃ বিশ্বব্যাপী ঘাতক করোনায় আঘাত হানার পর প্রায় ১ মাসে পর্যটননগরী সাগরকন্যা কুয়াকাটায় এ ভরা মৌশুমে শত শত কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে পর্যটনমুখী ব্যবসায়ীদের। দিশেহারা হয়ে পড়ছে শত শত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। কর্মহীন হচ্ছে কয়েক হাজার মানুষ। করোনার এ ধারা অব্যাহত থাকলে বেশীভাগ ক্ষুদ্রব্যবসায়ীরা পথে বসবে। অর্ধহারে অনাহরে মারা যেতে পারে এমন আশংকা করছে সবাই। সরকারের পক্ষ থেকে পর্যটন খাতে কোন প্রণোদনা প্যাকেজ না থাকায় দুঃখপ্রকাশ করছেন ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট এ্যাসোসিয়েশন কতৃপক্ষ।

বুধবার সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রাণঘাতী করোনা সারাদেশের ন্যায় কুয়াকাটার ১৩ টি টুরিস্ট স্পট এখন শুধুই শূন্যতা বিরাজ করছে। লকডাউনে পুরোদেশ যখন স্থাবির তখন কুয়াকাটাও তার ব্যতিক্রমন নয়। ১৫ টি ফার্মিসী বাদে সব ধরণের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১০ দিন আগে হোটেল মোটেল এবং ওয়াটার বাসসহ ট্যুরিস্ট বোট গুলো বন্ধ করে দেয় জেলা প্রশাসক। এর পড়ে ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায় বার্মিজ মার্কেট, সীবিচের ঝিনুক মার্কেট, রাখাইন মহিলা মার্কেট, শুটকির দোকান, খাবার রেস্তোরা, মিউজিয়াম, ইলিশপার্কসহ ছোট-বড় মাঝারি সকল ধরণের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

ট্যুরিজম কতৃপক্ষের পরিসংখ্যানে বলছে করোনার প্রভাবে আমাদের কুয়াকাটায় গত ১ মাসে অর্ধশত কোটি টাকা লোকসানের মুখে পর্যটন খাত। এ ভাবে চলতে থাকলে বেশীভাগ মাঝারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিশাল ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ দিকে সরকারের পক্ষে প্রনোদনা প্যাকেজে পর্যটন খাতের কোন নাম না থাকায় দুঃখ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বার্মিজ আচারের দোকানের স্বত্তাধিকারী জাকারিয়া জাহিদ বলেন, আমার দোকানে কর্মচারি বেতন দিতে পারি নাই ভরা মৌশুমে বন্ধ হলো দোকানা। ভাসমান কাকড়া ফ্রাই দোকান জামাল কান্না চোখে বলেন, এমনিতেই ৬ মাস ব্যবসা করি সাগরপারে তাও এখন এই অবস্থা দোকানপাট বন্ধ কি করবো লোন নেয়া আছে খাইবো না দেনা দিবো, মানুষের কাছে হাত পাত্তেও পরি না ।

কুয়াকাটা সী ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস পরিচালক জনি আলমগীর ও কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট এ্যাসোশিয়েশন (কুটুম)‘র সিনিয়র সহসভাপতি হোসাইন আমির বলেন, মুল সিজনেই এই বিপদে পড়তে হলো আমাদের গত এক মাসে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে আর কতদিন চলে তা একমাত্র আল্লাহই জানে। তারপরও সরকারের ঘোষিত প্রনোদনা প্যাকেজে যেন আমরা থাকতে পারি সে জন্য জোর দাবি জানাই।

তারা আরো বলেন, বিশ্ব ব্যাপী প্রানঘাতীর আঘাতের ছোবল পর্যটন শিল্পেও বেশী প্রভাব পরছে। কুয়াকাটা মাঝারী ধরণের ব্যবসায়ীদের ক্ষতির আশংকা আনেক বেশী। কারণ যত অভাব থাকুক লজ্জার কারণে এরা বাহিরে কারো কাছে হাত পাত্তে পরেনা। তাদের পাশে সরকারের আলাদাভাবে বিশেষ নজর দেওয়া উচিৎ।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওর্নাস এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম মোতালেব শরিফ জানান, করোনায় সবচেয়ে ক্ষতি হতে যাচ্ছে পর্যটন খাত সে অনুযায়ী কুয়াকাটায় মার্চের ১৭ থেকে বন্ধ হয়েছে পর্যটন শিল্প, ব্যবসার আসল মৌসুম পুরোটাই শেষ। সরকার ঘোষিত প্যাকেজের আওতায় থাকা কুয়াকাটা ব্যাংক গুলো খুলে দিয়ে ব্যবসায়ীদের দ্রুত স্বল্পঋনের ব্যাবস্থা করলে কিছুটা হলেও সামলে নেওয়া যাবে।